


মুম্বই: মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম চেন্নাই সুপার কিংস। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দুই দল। পাঁচবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সেই কারণেই এই দ্বৈরথকে বলা হয় আইপিএলের এল ক্লাসিকো। কিন্তু ওয়াংখেড়েতে বৃহস্পতিবারের ম্যাচ দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, দুটো বড় দল খেলছে। চেন্নাইয়ের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করল মুম্বই। ঘরের মাঠে হার্দিক পান্ডিয়ারা হারলেন ১০৩ রানে! প্রথমে ব্যাট করে সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো সেঞ্চুরির সুবাদে সিএসকে তুলেছিল ৬ উইকেটে ২০৭। জবাবে ১০৪ রানেই গুটিয়ে যায় মুম্বই।
স্পিনার আকিল হুসেনকে দিয়ে বোলিং শুরু করিয়েছিলেন সিএসকে অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। আর তাতেই নাভিশ্বাস উঠল হোম টিমের। আকিল ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। অথচ তাঁর প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বাঁ হাতি ওপেনার কুইন্টন ডি’কক। মনে হচ্ছিল, খেলা জমবে। কিন্তু ওই ওভারেরই শেষ বলে দানিশ মালেবারকে (০) ফিরিয়ে মুম্বই ইনিংসের মেরুদণ্ড ভাঙার কাজ করেন আকিল। এরপর মুকেশ চৌধুরির বলে ডাগ-আউটের পথ ধরেন ডি’কক (৭)। কিছুক্ষণের মধ্যে নমন ধীরকে (০) বোল্ড করে চেন্নাইকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন আকিল। ১১ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সূর্যকুমার যাদব (৩৫) ও তিলক ভার্মা (৩৭) কিছুটা লড়াই করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা আউট হতেই নিশ্চিত হয়ে যায় মুম্বইয়ের পরাজয়। হার্দিক (১), রাদারফোর্ড (০), শার্দূলরা (৬) বাইশ গজে থিতুই হতে পারেননি। ৬ বল বাকি থাকতে যবনিকা নামে মুম্বইয়ের ইনিংসে। আকিলের পাশাপাশি ২ উইকেট পান আর এক স্পিনার নুর আহমেদ।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল চেন্নাই। কিন্তু ক্যাপ্টেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড় আচমকাই ২২ রানে আউট হয়ে যান। ব্যর্থ সরফরাজ খান (১৪), শিবম দুবেও (৫)। পর পর উইকেট পড়লেও সঞ্জুকে থামানো যায়নি। দিল্লির বিরুদ্ধে অপরাজিত ১১৫ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি। এদিনও মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে মর্যাদার লড়াইয়ে সঞ্জুই চেন্নাইয়ের ব্যাটিংকে পথ দেখালেন। ৫৪ বলে করলেন ১০১। ইনিংসের শেষ ডেলিভারিতে চার মেরে পঞ্চম আইপিএল শতরান পূর্ণ করেন তিনি। মেরেছেন ১০টি চার ও ৬টি ছক্কা। উল্লেখ্য, ধোনি-রোহিত না খেলায় গ্যালারিতে যে আপশোস ঝরে পড়েছিল ম্যাচের শুরুতে, সঞ্জুর ব্যাটিং দেখার পর তা নিমেষে উধাও। শেষদিকে তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত রান তুললেন ব্রেভিস (২১), কার্তিক শর্মা (১৮), জেমি ওভারটনও (১৫)।
মুম্বইয়ের বোলিং এদিনও ভালো হয়নি। বিশেষ করে বুমরাহকে নিয়ে হতাশা ক্রমশ বাড়ছে। একটি উইকেট পেলেও প্রত্যাশা পূরণে তিনি ব্যর্থই।