Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গলমহলে সংগঠন বাড়াতে জোর সঙ্ঘের, বাংলা, ওড়িশা, আন্দামান নিয়ে এবার বর্গ শিবির

রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপির সরকার। ভোটপর্ব শেষ হতেই সামনে এসেছে সঙ্ঘ পরিবার।

জঙ্গলমহলে সংগঠন বাড়াতে জোর সঙ্ঘের, বাংলা, ওড়িশা, আন্দামান নিয়ে এবার বর্গ শিবির
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপির সরকার। ভোটপর্ব শেষ হতেই সামনে এসেছে সঙ্ঘ পরিবার। বঙ্গে পালাবদল হতেই কলিঙ্গ, বঙ্গ ও আন্দামান নিয়ে ওড়িশায় এবার বর্গ শিবির হচ্ছে। জঙ্গলমহলের বহু যুবক এই শিবিরে যোগ দিতে পাড়ি দিয়েছেন ওড়িশায়। রাজ্যের এক সঙ্ঘ প্রমুখ বলেন, নির্বাচনের পর ভারতের পূর্ব ক্ষেত্রে  বাংলা, ওড়িশা ও আন্দামান নিয়ে এবার শিবিরের আয়োজন হয়েছে। ওড়িশায় একমাস ধরে চলছে এই কর্মসূচি। জঙ্গলমহলের কার্যালয়গুলি এখন প্রায় ফাঁকা। সদস্যরা ফিরে এসে প্রচারের কাজে নামবেন সেখানে। নগর শাখার কাজে বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। সঙ্ঘে যোগদানের জন্য সর্বস্তরের মানুষের আগ্ৰহ বাড়ছে।

Advertisement

ছাব্বিশের বিধানসভায় গেরুয়া ঝড়ে ঘাসফুল উড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলে সমাজের নানান স্তরে সঙ্ঘের সদস্যরা কাজ করেছেন। সঙ্ঘবদ্ধ এই প্রচেষ্টা রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড় তুলেছে। এবার সঙ্ঘ পরিবার প্রকাশ্যেই সংগঠনের কাজকর্মের উদ্যোগ নিতে শুরু করে দিয়েছে।  বাংলা, আন্দামান ও ওড়িশা নিয়ে এবার উৎকলে একমাসের বর্গ শিবিরে আয়োজন করা হয়েছে। শিবির থেকে ফিরে আসা সদস্যরা নানা স্তরে প্রচারের কাজে নেমে পড়বেন এরাজ্যে। সঙ্ঘের তরফে মূলত আদিবাসী জনজাতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নীরবে আস্থা অর্জনের কাজ চলছে। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপির চমকপ্রদ ফলের পরে  নগর শাখার বিস্তারে সঙ্ঘ কাজ শুরু করতে চলেছে। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ড বা বসতি নিয়ে ‘পরিচয় বর্গ’ শুরু হতে যাচ্ছে। সঙ্ঘে যাঁরা যোগ দিচ্ছেন পরিচয় বর্গ থেকে প্রারম্ভিক বর্গে তাঁদের ঝাড়াইবাছাই হবে। সঙ্ঘে যোগ দিতে ইচ্ছুকদের সংগঠনের আদর্শ, কর্মপদ্ধতি ও বিচারধারা নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ  হবে। নতুন সদস্যদের এরপর সাত দিন ধরে নিজের এলাকায় গিয়ে সঙ্ঘের ভাবাদর্শ নিয়ে কাজ করতে বলা হবে। যাঁরা যোগ্য বিবেচিত হবেন তাঁদের তিন দিনের প্রারম্ভিক বর্গে প্রবেশের ছাড়পত্র মিলবে। 
প্রাথমিক বর্গের পরেও রয়েছে একাধিক পর্যায়। প্রারম্ভিক বর্গের পরে রয়েছে প্রাথমিক বর্গ। যোগদানের এক বছরের মাথায় ১৫ দিনের 'শিক্ষা বর্গের প্রশিক্ষণ হয়। তার দু’বছর পরে হয় কুড়ি দিনের প্রথম ‘কার্যকর্তা বিকাশ বর্গ’। প্রথম পর্বের দু’বছর পর হয় ২৫ দিনের দ্বিতীয় ‘কার্যকর্তা বিকাশ পর্ব’। দীর্ঘ এই প্রশিক্ষণ পর্বের ভিতর দিয়ে যাঁরা উত্তীর্ণ হন তাঁরাই সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে বিবেচিত হন। 
সম্প্রতি নির্বাচন পর্বে ঝাড়গ্রাম জুড়ে সঙ্ঘের ১৫ হাজারের বেশি প্রশিক্ষিত সদস্য গ্ৰামীণ স্তরে বৈঠক করেছেন। কৃষক, শ্রমিক, মহিলা ও আদিবাসী, জনজাতিদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক হয়েছিল সঙ্ঘের সদস্যদের। সদস্যরা প্রচার পর্বে নানা বর্গে বিভক্ত ছিলেন। 
জেলার সঙ্ঘের সদস্যদের বক্তব্য, সঙ্ঘ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আদর্শকে সামনে রেখে ব্যক্তি নির্মাণ ও সমাজ গঠনের কাজ করাই লক্ষ্য আমাদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ