Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলাবতী থেকে বালি চুরি, বিজেপির মদতের অভিযোগ

রাতের অন্ধকারে সিমলাপালের পাথরডাঙা-ভেলাইডিহা কজওয়ে সংলগ্ন শিলাবতী নদী থেকে বালি চুরির অভিযোগ উঠল।

শিলাবতী থেকে বালি চুরি, বিজেপির মদতের অভিযোগ
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খাতড়া: রাতের অন্ধকারে সিমলাপালের পাথরডাঙা-ভেলাইডিহা কজওয়ে সংলগ্ন শিলাবতী নদী থেকে বালি চুরির অভিযোগ উঠল। নদী থেকে বড় মেশিন দিয়ে বালি তোলার ভিডিয়ো সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। তবে বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা একযোগে শাসকদলের দিকে আঙুল তুললেও, বালি চুরির অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন বলে দাবি বিজেপির। অন্যদিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। 

Advertisement

নদী সংস্কারের নামে সিমলাপালের পাথরডাঙা এলাকা থেকে বুধবার রাতে নদী থেকে বড় মেশিন দিয়ে বালি তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ওই দিন সারারাত ১০-১২টি ট্রাক্টরে করে বালি পাচার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাথরডাঙা গ্রামের এক ব্যক্তির অভিযোগ, রাতে বালি তোলার যন্ত্র ও ট্রাক্টরের আওয়াজ শুনে বুঝতে পারি নদী থেকে বালি তোলা হচ্ছে। ভরা বর্ষায় নদীতে জল বইছে, ঝুঁকি নিয়ে এভাবে রাতের অন্ধকারে বালি তোলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনা প্রসঙ্গে বিরোধী তৃণমূল থেকে সিপিএমের দাবি, শাসকদলের নেতাদের মদতেই রাতের অন্ধকারে বালি পাচার হয়েছে। অন্যদিকে মাচাতোড়া অঞ্চলের গাড়রা গ্রামের বাসিন্দা শান্তিনাথ শতপথী বলেন, বালি চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ওই কজওয়ে অল্প বৃষ্টিতেই জলের তলায় চলে যায়। তাই নদী তীরবর্তী একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে ওই রাতে নদী সংস্কার হচ্ছিল। 
সিপিএমের সিমলাপাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক কৌশিক পাইন বলেন, তৃণমূলকে তাড়িয়ে মানুষ ভেবেছিল রাম রাজত্ব হবে। এখন যা বুঝছি, মানুষ তৃণমূল চোরকে তাড়িয়ে ডাকাত বিজেপিকে এনেছে। ওরাও বালি চুরি করত, এরাও করছে। অথচ সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পেয়ে উপভোক্তারা বাড়ি তৈরির জন্য বালি পাচ্ছে না।  তালডাংরা বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহবাবু বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি অবগত নই। তবে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে স্থানীয় আধিকারিকদের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে দেখার। এবং আগামীদিনে যাতে এধরনের ঘটনা না ঘটে, তার ব্যবস্থা নেওয়া। অন্যদিকে বিজেপির তালডাংরা মণ্ডল চারের সভাপতি জীবন দালাল বলেন, বিগত সরকারের আমলে একাধিকবার জানিয়েও নদী সংস্কার না হওয়ায় নাব্যতা কমেছে। শিলাবতী নদির পাথরডাঙ্গা ভেলাইডিহা কজ‌ওয়ের সামনে নানা ধরনের গাছ এবং বালি সহ মাটি জমে কজ‌ওয়ে থাকা পোলগুলির মুখ প্রায়ই ভরাট হয়ে গিয়েছিল। যার জেরে অল্প বৃষ্টিতেই ওই কজ‌ওয়ে জলের তলায় চলে যায় এবং পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী শতাধিক কৃষকের কষ্টের ফসল জলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই স্থানীয় গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে ওই কজ‌ওয়ের সামনে থাকা গাছ, মাটি ও বালি সরিয়ে কজ‌ওয়ের সামনের অংশ সংস্কারের কাজ করছিল। যাতে ওই কজ‌ওয়ের ভিতর দিয়ে জল বিনা বাধায় যেতে পারে। আমরা ওই রাতেই খবর পেয়েই খোঁজও নিই। তবে এই ঘটনায় নদী থেকে বালি চুরি বা বিজেপি নেতৃত্বের যুক্ত থাকার অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন। এখন সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন আসছে, তাই বিজেপির নামে বদনাম রটাতে বিরোধীরা এই অভিযোগ আনছে। সিমলাপাল ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুলিশকে নিয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। অন্যদিকে খাতড়া মহকুমা পুলিশ প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ