সংবাদদাতা, খাতড়া: তালডাংরার পাঁচমুড়া অঞ্চলের লালবাঁধ গ্রাম লাগোয়া ও জামবেদিয়া ফুটবল মাঠের পাশে পাহাড়ের মতো একাধিক বালি স্তৃপ। দেখে মনে হবে মরুভূমির বালিয়াড়ি। ওইসব বালি তৃণমূলের মদতে জয়পন্ডা নদী থেকে তুলে মজুত রাখা হয়েছিল পাচারের উদ্দেশ্যে, অভিযোগ বিজেপির। সরকার পরিবর্তনে বালি কারবারিদের পাচারের পরিকল্পনা মাঠে মারা গিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এতো বালি কীভাবে দিনের পর দিন নদী থেকে তোলা হল, কী করেই বা মজুত করা হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। স্থানীয় বিধায়কের দাবি, তৃণমূলের আমলে বিভিন্ন নদী থেকে বালি তুলে মজুত করে রাখা ও পাচার করার একটি অবৈধ সিস্টেম ছিল। এই মজুত বালি সেই সিস্টেমেরই অঙ্গ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই পাঁচমুড়া এলাকায় বালি কারবারিদের ব্যবসা চলত রমরমিয়ে। লালবাঁধ, দৈউলভিড়া ও ভেতুয়াডাঙ্গা গ্রামের পাশাপাশি এলাকা দিয়ে বয়ে গিয়েছে জয়পন্ডা নদী। সেই নদী থেকেই অবৈধ ভাবে বালি তুলে পাচার করা হতো চড়া দামে। এই কারবারে তৃণমূল নেতাদের মদত ছিল বলেই দাবি বিজেপির। তবে সরকার পরিবর্তনের পর মজুত করা বালি পাচার করার সাহস পায়নি বালি কারবারিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিজেপি নেতা বলেন, তৃণমূলের মদতে দিনের পর দিন জয়পন্ডা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি তুলে লালবাঁধ গ্রাম লাগোয়া ও জামবেদিয়া ফুটবল গ্রাউন্ডের পাশে মজুত করে রাখা হতো। পরে সেখান থেকে পাচার হয়ে যেতো অন্যত্র। কিন্তু এলাকায় স্থানীয় ভিলেজ পুলিশ ও একাধিক সিভিক থাকা সত্ত্বেও তাদের চোখ এড়িয়ে কীভাবে এই অবৈধ বালি তুলে মজুত করা হল তা নিয়েও আমাদের কৌতূহল আছে। এর পিছনে কাদের মদত ছিল? অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করুক প্রশাসন।
তালডাংরা ব্লকের এক তৃণমূল নেতা বলেন, এই বালি মজুতের সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই। বিজেপি এখন তৃণমূলের দিকে দায় ঠেলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। আমরাও চাই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে বা কারা এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত।
তালডাংরার বিধায়ক সৌভিক পাত্র বলেন, তৃণমূলের আমলে একটা সিস্টেম ছিল, বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি তুলে এক জায়গায় মজুত করা ও পরে সেই বালি পাচার করার। সরকার পরিবর্তনের পর সেই সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। তাই চুরির বালি এখনও পড়ে আছে। আগামীদিনে সরকারি নিয়ম মেনে বৈধ বালি ঘাট চালু হবে। সাধারণ মানুষ সস্তায় বালি পাবে। সরকারের ঠিকঠাক রাজস্ব আদায়ও হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো যেখানে যেখানে অবৈধ বালি মজুত করা রয়েছে, সেই বালি যাতে সরকারি নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষকে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। বালি মজুত থাকার বিষয়টি নির্দিষ্ট দপ্তরে জানাব।