নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দামোদর নদে বাঁকুড়ার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বালি তুলে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান হয়ে দেদার পাচার করা হচ্ছে। এব্যাপারে শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরি সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা সরব হয়েছেন। বালি কারবারিরা বাঁকুড়া থেকে বালি তুলে পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানের দিকে নদীর পাড়ে মজুত করেছে বলে অভিযোগ। রাজস্ব ফাঁকি দিতেই তারা দু’দিকের প্রশাসনের চোখে ধুলো দেয় বলে বিধায়ক সহ অন্যান্যরা অভিযোগ তুলেছেন। ওই ঘটনায় ভূমিদপ্তরের আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব প্রশ্ন তুলেছে।
চন্দনাদেবী বলেন, বাঁকুড়া থেকে বালি তুলে রানিগঞ্জের দিকে ডাঁই করে রাখা হয়েছে। জাল চালান ব্যবহার করে বালি পাচারের বিষয়টি আমি ধরেছি। আগে আমাকে খাদান বা বালির স্টক পয়েন্টের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেওয়া হত না। বালি মাফিয়াদের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা আমাকে বাধা দিত। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে রাজস্ব ফাঁকি মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের নজরে আনা হবে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, শালতোড়ার বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মেজিয়া ব্লক ভূমিদপ্তরের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিলাম। পশ্চিম বর্ধমানের সীমানায় দামোদর নদ থেকে বালি তুলে করে রানিগঞ্জে মজুত করা হয়েছে বলে আধিকারিকরা আমাদের জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাম আমল থেকেই দামোদর নদের বালি লুট করা হচ্ছে। ২০১৬ সাল নাগাদ বিষয়টি চরম আকার নেয়। দামোদর নদের অনেকটা অংশ বাঁকুড়া জেলার আওতায় পড়ে। দামোদরের বাম তীরে দুই বর্ধমান ঘেঁষা কিছু এলাকাও বাঁকুড়ার অন্তর্গত। মাঝে বিস্তৃত দামোদর নদ থাকায় বাঁকুড়ার পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষে সবসময় সেদিকে নজরদারি চালানো সম্ভব হয় না। আবার দুই বর্ধমানের প্রশাসনও বাঁকুড়ার এলাকা হওয়ায় কার্যত নজর ঘুরিয়ে রাখে। ফলে ওইসব এলাকা বালি মাফিয়াদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। পরে বেশ কিছু খাদান নিলামে তুলে সরকার রাজস্ব আদায় শুরু করে। তবে এখনও বেআইনি বালি কারবার বন্ধ করা যায়নি।
মেজিয়া ও বড়জোড়া এলাকায় দু’-একটি জায়গায় বালি খাদান লিজ নিয়ে মাফিয়ারা গোটা দামোদরে রাজত্ব চালাচ্ছে। বাঁকুড়ার দিকে বালি তোলার পর দুই বর্ধমানে নিয়ে গিয়ে তা মজুত করছে। দু’দিকের ভূমি দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশকে ‘নজরানা’ দিয়ে তারা বিপুল সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে নদের পাড়ে পাহাড়প্রমাণ বালি মজুত করছে। রাস্তায় রাজস্ব ফাঁকি দিতে তারা সাদা কাগজে জাল কিউ আর কোড ছাপিয়ে ট্রাক, ডাম্পারে বালি পাচার করছে। অবিলম্বে ওই কারবার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে। বিজেপি বিধায়ক সরব হওয়ায় নতুন সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকে সকলে তাকিয়ে রয়েছে।