Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেতন বাড়ছে স্কুল ও কলেজের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর, বদলি নিয়েও নয়া নীতি

বেতন বাড়ছে স্কুল ও কলেজের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর, বদলি নিয়েও নয়া নীতি
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের নতুন সরকার ইতিমধ্যে স্কুলের প্যারাটিচারদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। এবার বেতন বাড়তে চলেছে স্কুল-কলেজের অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। সোমবার বিধানসভায় শিক্ষা বাজেটের জবাবি ভাষণে এই আশ্বাস দিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। এর আওতায় আসবেন স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স বা ‘স্যাক্ট’ এবং সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনে স্কুলে নিযুক্ত বিভিন্ন ধরনের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। সব মিলিয়ে উপকৃত হতে চলেছেন প্রায় ৫৫ হাজার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।

Advertisement

এদিন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্যাক্ট-দের সাম্মানিক বাড়ানোর ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আমাকে এগিয়ে যেতে বলেছেন। তবে যাঁদের যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদেরই বেতন বৃদ্ধি হবে। যাঁদের তা নেই, তাঁদের বিষয়ে সেভাবে পদক্ষেপ করবে সরকার। কারণ, অনেকেই আছেন, যাঁদের মাস্টার ডিগ্রিতে ৫৫ শতাংশের অনেক কম নম্বর রয়েছে।’ প্রসঙ্গত, স্যাক্ট-১ এবং স্যাক্ট মিলিয়ে ১২ হাজারেরও বেশি কলেজ শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের কম নম্বর রয়েছে প্রায় ৪৫০ জনের। যদিও স্যাক্ট-এর নেতা গোপাল ঘোষ বলেন, ‘অধিকাংশ স্যাক্ট শিক্ষকেরই ইউজিসি নির্ধারিত যোগ্যতা রয়েছে। এ রাজ্যের সমস্ত ‘এ’ বা তার চেয়েও ভালো গ্রেড পাওয়া কলেজগুলি চলছেই স্যাক্টদের নিয়ে। এই ধরনের শীর্ষস্থানীয় কলেজগুলিতে তাঁদের সংখ্যা স্থায়ী শিক্ষকদের চেয়ে বেশি। কোথাও কোথাও দ্বিগুণ। ফলে মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার খুব বেশি অবকাশ নেই।’ যদিও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী পরে সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘যাঁদের যোগ্যতা নেই, তাঁদের তা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে।’
স্কুলশিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩২৮০ জন শিক্ষাবন্ধু, ২১ জন স্পেশাল এডুকেটর, ২১৭৪ জন সমগ্র শিক্ষা মিশনের কর্মী-আধিকারিক, শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের (এসএসকে) ৩০ হাজার এবং মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের ৬,২৯৩ জন শিক্ষাদানে নিযুক্ত ব্যক্তি, ২৭ জন মুখ্য সম্প্রসারক, ৬৬২ জন উচ্চ মাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক সহ আরও কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বেতন বৃদ্ধির ফাইল অর্থদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অর্থদপ্তরের প্রাথমিক সম্মতি মিলেছে বলেও জানান তিনি। প্যারাটিচার এবং মিড ডে মিলের কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি হওয়ার পর এঁদের তরফে জোরালো দাবি উঠেছিল।
অন্যদিকে, স্কুলের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে নয়া নীতি আসছে বলে জানিয়েছেন দীপকবাবু। তিনি বলেন, ‘অনুমোদিত পদের অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষক না থাকলে সেই স্কুল থেকে কোনো শিক্ষকের বদলির আবেদন গ্রাহ্য হবে না। কারণ, সেক্ষেত্রে গ্রামের স্কুলগুলি আরও খালি হয়ে যাবে।’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বদলির আবেদন গ্রহণের ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল খুলেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। তারপর মন্ত্রীর এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ