Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বর্তমান’ সংবাদপত্রে খবরে টনক নড়ল, অবৈধ পাথর খাদান নিয়ে থানায় অভিযোগ সালানপুরের ভূমিকর্তার

‘বর্তমান’ সংবাদপত্রে খবরে টনক নড়ল, অবৈধ পাথর খাদান নিয়ে থানায় অভিযোগ সালানপুরের ভূমিকর্তার
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নদীর উপর রয়েছে পাথর খাদান। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে টাকা লুটের কারবারের সাক্ষী সালানপুর। অজয় নদের বিস্তীর্ণ অংশ ঘিরে, নদীর তলদেশে থাকা পাথর নির্বিচারে তুলছিল মাফিয়ারা। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দিনে-দুপুরে এই কাণ্ড ঘটলেও ‘নজরে’ পড়েনি প্রশাসনের। ‘বর্তমান’ পত্রিকায় সালানপুরের অবৈধ পাথর খাদান নিয়ে পরপর তিনটি খবর প্রকাশিত হয়। ব্লক প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেন জেলাশাসক। এই অবৈধ খাদান রেল শহর চিত্তরঞ্জনেও উদ্বেগ ছড়ায়। শ্মশানের ইলেকট্রিক চুল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তদন্তে নামে রেলও। তারপরই এলাকা পরিদর্শনে যান সালানপুরের বিএলএলআরও সহ পুলিস-প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার বিএলএলআরও সুমন সরকার সালানপুর থানায় এই অবৈধ পাথর খাদানের কারবারিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

Advertisement

সুমন সরকার বলেন, নদীর তলদেশে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পাথর খাদান গড়া হয়েছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। আমাদের অভিযানের সময়ে কাউকে দেখতে পাওয়া যায়নি। তাই কোনও নির্দিষ্ট কারবারির নাম উল্লেখ করা যায়নি। আশা করছি, পুলিস নিশ্চয়ই তদন্ত করে অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করবে।
সালানপুর ব্লকের নমকেশিয়া, ‌঩জিৎপুর হয়ে অজয় নদের ধার বরাবর একের পর এক অবৈধ পাথর খাদান গজিয়ে উঠেছে। এই অবৈধ কারবারের বিস্তার সালানপুরের গণ্ডি টপকে বারাবনি থানা এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। অজয় নদের তীরে ভালো মানের কালো পাথর পাওয়া যায়। তা নির্বিচারে তুলে স্থানীয় ক্র্যাশার মেশিনে ভেঙে বাইরে পাচার করা হচ্ছে। পুরো কারবারের সিংহভাগের কোনও অনুমোদন নেই। নিয়ম না মেনে ক্র্যাশার চলায় ধুলোয় ঢাকছে এলাকা। সালানপুর ব্লকে সিলিকোসিসের মতো ধুলোজনিত ভয়ঙ্কর রোগ হলেও হুঁশ ফেরেনি পুলিস-প্রশাসনের। তারপরই এই কারবারের পর্দা ফাঁস করে বর্তমান পত্রিকা। কারবারিরা এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, অজয়ের তলায় থাকা কালো পাথর তুলতে নদীর একটি বড় অংশই ঘিরে দিয়েছিল। নদীর উল্টো পারেই চিত্তরঞ্জনের শ্মশান। নদীর তলায় থাকা পাথর তোলার জন্য বিকট বিস্ফোরণ করা হতো। তার জেরে শ্মশানের ইলেকট্রিক চুল্লিই বিপন্ন হয়ে পড়ছিল। তারপরই তদন্তে নামে রেল। রেলের তৎপরতা দেখে ব্লক প্রশাসনও অবৈধ কারবারে রাশ টানতে তৎপরতা দেখাল। যদিও সালানপুরবাসীর একাংশের আশঙ্কা, নামবিহীন লিখিত অভিযোগে আদৌ কি কাজ হবে?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ