


পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: বীরভূম জেলায় শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল নতুন কিছু নয়। কিন্তু সিউড়ি-২ ব্লকে তা যেন একটু বেশিই তীব্র। যে ব্লকের মাটি বারবার তৃণমূলের অন্তর্কহলে তপ্ত হয়েছে, রক্ত ঝরেছে। নির্বাচনের আবহে সেই ব্লকই আবার সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে শাসকদলের কাছে। সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের তুরুপের তাস বলতে যদি কিছু থাকে, তবে তা এই সিউড়ি-২। এবার ভোটেও সাঁইথিয়া আসনের তৃণমূল প্রার্থী নীলাবতী সাহার প্রধান ভরসা এই ব্লক। ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলামের আশ্বাস, প্রতিবারের মতো এবারও আমরা রেকর্ড ভোটে লিড দেব। বিজেপির সংগঠন বলে কিছুই নেই। ৮৫টি বুথের অধিকাংশতেই ওরা এজেন্ট দেওয়ার লোক পাবে না।
সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান বেশ জটিল। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত সিউড়ি-২ ব্লকের সবক’টি পঞ্চায়েত, সাঁইথিয়া ব্লকের ছ’টি পঞ্চায়েত, সাঁইথিয়া পুরসভা এবং মহম্মদবাজার ব্লকের ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, মহম্মদবাজার ও সাঁইথিয়া ব্লকে তৃণমূলের জমি বেশ আলগা হয়েছে। সাঁইথিয়ার ছ’টি পঞ্চায়েতের মধ্যে তিনটিতে এবং মহম্মদবাজারের চারটি পঞ্চায়েতে বিজেপি লিড নিয়েছিল। মহম্মদবাজার বা সাঁইথিয়ার এই ক্ষত মেকআপ করে দিয়েছিল সিউড়ি-২ ব্লক। মাত্র ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই ব্লক তৃণমূলকে প্রায় ২৮ ভোটের লিড দেয়। পুরো বিধানসভা এলাকায় বিজেপি সামগ্রিকভাবে ৩৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে। গত বিধানসভা ভোটে সাঁইথিয়ায় প্রায় ১৫ হাজার ভোটে জয়ী হন নীলাবতি। সিউড়ি-২ ব্লকই প্রায় ১১হাজার ভোটের লিড দিয়েছিল। এই সাফল্যের উজ্জ্বল ছবির উল্টোদিকেই রয়েছে গোষ্ঠীকোন্দলের কাঁটা।
সিউড়ি-২ ব্লকে তৃণমূলের অন্তর্কহল গোপন কোনো বিষয় নয়। ব্লকের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখ গোষ্ঠীর বারবার রক্তক্ষয়ী লড়াই হয়েছে। এমনকি, সাংসদ শতাব্দী রায়ের সামনেই দলের নেতাদের মারধর করার ঘটনা আলোড়ন ফেলেছিল। ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁরই একদা সতীর্থ বলরাম বাগদি বা শেখ বকুলের সংঘাত এতটাই চরমে উঠেছিল যে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি বৈঠকে ‘লাস্ট ওয়ার্নিং’ দিতে বাধ্য হন। সেই হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে, ভিতরে ভিতরে চাপা উত্তেজনা রয়েই গিয়েছে।
যদিও ব্লক সভাপতি নুরুল স্পষ্ট জানান, ব্লকে গোষ্ঠীকোন্দল বলে কিছু নেই। বোলপুর থেকে কিছু নেতা উসকানি দিয়ে এই গণ্ডগোল পাকাত। তাতেও কিছু লাভ হয়নি। এই ব্লক থেকে লিড পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী প্রার্থী নীলাবতী। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই একজোট। আশা করছি, মানুষ দু’হাত তুলে আমাদের আশীর্বাদ করবেন।
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূল যে লিডের দম্ভ দেখাচ্ছে তা আদতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট নয়। সিউড়ি-২ ব্লককে কার্যত বিরোধীশূন্য করে রাখা হয়েছে। ওখানে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে হাতিয়ার করে এই ভোটের ব্যবধান তৈরি করা হয়।