Bartaman Logo
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

১০ জনে খেলেই বাজিমাত সাহালদের

দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাল মোহন বাগান! ডুরান্ড কাপ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ১-৪ ব্যবধানে হেরে কলকাতা লিগকেই পাখির চোখ করেছিলেন সবুজ-মেরুন কর্তারা।

১০ জনে খেলেই বাজিমাত সাহালদের
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মোহন বাগান- ৩          :      মহমেডান স্পোর্টিং-২

Advertisement

অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, বারাসত: ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ১-৪ ব্যবধানে হেরে কলকাতা লিগকেই পাখির চোখ করেছিলেন সবুজ-মেরুন কর্তারা। সেই লক্ষ্য অবশ্যই সফল। সিনিয়র দলের একাধিক ফুটবলার খেলিয়ে অবশেষে আট বছর পর লিগ ঘরে তুলল গঙ্গাপাড়ের ক্লাবটি। শনিবার বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে  সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচেও একের পর এক নাটকের সাক্ষী থাকলেন অনুরাগীরা। একটা সময় চাপ এতটাই বেড়েছিল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভিআইপি বক্সে বসেও দরদর করে ঘামছিলেন সিনিয়র দলের কোচ পানাজিওটিস। রেফারির লম্বা বাঁশির শব্দে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন তিনি। 
ম্যাচ জয়ের সঙ্গেসঙ্গেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস। ডাগ-আউটে স্বস্তির নিঃশ্বাস। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩৮ মিনিট ১০ জনে খেলেও মহমেডান স্পোর্টিংকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ৩১তম খেতাব জিতল মোহন বাগান। গত মরশুমে আইএফএ শিল্ডের পর ফের ট্রফির স্বাদ পেল তারা। ঘরোয়া লিগের শেষ ম্যাচের নায়ক অবশ্যই সাহাল আবদুল সামাদ। তাঁর ঝুলিতে জোড়া গোল। সুপার-সাব সায়ন ব্যানার্জির লক্ষ্যভেদেও সাহালের অবদান রয়েছে। 
জাতীয় দলের ডাক পাওয়া একাধিক ফুটবলার বাইরে থাকায় শিরোপা নির্ণায়ক ম্যাচে ছাংতেকে শুরু থেকেই নামানো হয়। তবে মহমেডানের রক্ষণ বেশ জমাট ছিল। ফলে ডেডলক খুলতে ২৬ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় মনবীরদের। বক্সের মধ্যে ছাংতের বুদ্ধিদীপ্ত চিপ খুঁজে নেয় সাহালকে। হেডে গোল করতে ভুল হয়নি তাঁর (১-০)। কিন্তু লিড নিয়েও অস্বস্তিতে ছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ৪২ মিনিটে মোহন বাগান ডিফেন্সের আগল খুলে কিমকিমার বাড়ানো বল ধরে জালে পাঠান রেমসাঙ্গা (১-১)।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে মহমেডান স্পোর্টিং। সবুজ-মেরুন বক্সে একের পর এক আক্রমণ। মাঝমাঠ থেকে মহিতোষের পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন রেমসাঙ্গা। তাঁকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে দেন গোলরক্ষক দীপ্রভাত। লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের মোহন বাগান। স্পটকিক থেকে ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ মহিতোষের (২-১)। আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি সবুজ-মেরুন। মহমেডানের রক্ষণে তখন আত্মতুষ্টির ছাপ। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন সাহাল। ৭০ মিনিটে মনবীরের ব্যাকহেডে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলের তথা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেরালাইট মিডিও (২-২)। এর মিনিট চারেক পরে বিপক্ষের মিসপাস থেকে বল পান পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামা সায়ন। সাহালের সঙ্গে পাস খেলে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে জাল কাঁপান তিনি (৩-১)। যদিও এই গোলের ক্ষেত্রে অফ-সাইডের অভিযোগ আনে সাদা-কালো ব্রিগেড। 
মোহন বাগান: দীপ্রভাত, রবিলাল, শুভাশিস, রাহুল, রাজ, কিয়ান (সায়ন), সাহাল (সুহেল), দীপক (অভিষেক), সন্দীপ, ছাংতে (জাহিদ) এবং মনবীর (সাজি)।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ