Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতে লেখা রসিদে দাঁড়ি টানছে নবান্ন, ১ এপ্রিল থেকে আসছে ‘সহজ-সরল’ পোর্টাল

রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে নতুন অর্থবর্ষ থেকে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের আয়-ব্যয়ের উপর কড়া নজরদারি চালু করছে নবান্ন।

হাতে লেখা রসিদে দাঁড়ি টানছে নবান্ন, ১ এপ্রিল থেকে আসছে ‘সহজ-সরল’ পোর্টাল
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে নতুন অর্থবর্ষ থেকে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের আয়-ব্যয়ের উপর কড়া নজরদারি চালু করছে নবান্ন। জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত—তিনটি স্তরেই হাতে লেখা রসিদের বিনিময়ে লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। চালু করা হচ্ছে নয়া পোর্টাল। শুধুমাত্র এর মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেনের অনুমতি থাকছে। এর ফলে দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের হিসেব অনলাইনে তৎক্ষণাৎ নথিভুক্ত হয়ে যাবে। ১ এপ্রিল থেকে এই নিয়ম চালু করতে নিয়ে আসা হচ্ছে একটি ‘ইউনিফায়েড অ্যাকাউন্টিং সফ্টওয়ার’, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সহজ-সরল’ পোর্টাল। 

Advertisement

এতদিন গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে আর্থিক লেনদেনের হিসেব রাখতে গ্রাম পঞ্চায়েত ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (জিপিএমএস) পোর্টাল ব্যবহার করা হতো। জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে ব্যবহার হতো আইএফএমএস-সরল। এবার তিনটি স্তরেই ‘সহজ-সরল’ পোর্টাল ব্যবহৃত হবে। জেলাশাসকদের ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে প্রচুর টাকার লেনদেন হয়। ঘাট, মাঠ, বাড়ির মতো নিজস্ব সম্পত্তি লিজ বা ভাড়া বাবদ প্রচুর রাজস্ব থেকে শুরু করে দরপত্র সংক্রান্ত টাকা জমা পড়ে প্রতিদিন। পাশাপাশি, নানা খাতে বহু টাকা খরচও হয়। কিন্তু যাঁরা টাকা জমা দিচ্ছেন,  তাঁরা শুধুমাত্র হাতে লেখা একটি রসিদ হাতে পান। এবার থেকে তাঁরা ‘সহজ-সরল’ পোর্টালের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেরিয়ে আসা রসিদ পাবেন। সেই মুহূর্তে ওই লেনদেনের তথ্য উঠে যাবে পোর্টালে। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি চালাতে কোনও সমস্যা হবে না। একইভাবে টাকা খরচের ক্ষেত্রে ১০ দিন পরে ‘এন্ট্রি’ করা বা মাসের শেষে অ্যাকাউন্ট ক্লোজ করার প্রবণতায় ইতি টানা যাবে বলে মত প্রশাসনিক কর্তাদের। বর্তমান ব্যবস্থায় পঞ্চায়েতগুলি বিল মেটানোর সময় ‘ম্যানুয়ালি’ বা হাতে লেখা রসিদ দেয়। প্রশাসনিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘পাস ফর পেমেন্ট’। এবার থেকে এই রসিদও মিলবে পোর্টাল থেকে। এখানেই শেষ নয়, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্ট কোডিফিকেশন অনুযায়ী 
কোন কোন খাতে খরচ করা যাবে, তারও ‘অ্যাকাউন্ট হেড’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে এই নয়া নিয়মে। 
ফলে পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয়ের টাকা নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনও খাতে ব্যবহার করা যাবে না। অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স, পঞ্চায়েত ট্যুরিজম, অনলাইন বিল্ডিং প্ল্যান, দরপত্র ডাকার পোর্টাল সহ আরও কয়েকটি পোর্টালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে এই পোর্টালকে। এর ফলে এসব খাতে জমা পড়া অর্থ সঙ্গে সঙ্গে উঠে যাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্যাশ বুকে। নতুন ব্যবস্থা চালু করতে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের ‘ব্যাঙ্ক অব অ্যাকাউন্ট’ আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ