


সংবাদদাতা, ডোমকল: কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে টাকা! নিজের ভাইয়ের নামে পাশ করা হয়েছে ওয়ার্ক অর্ডার— কংগ্রেস পরিচালিত সাগরপাড়ার সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে এমনই বিস্তর অভিযোগ তুললেন পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা জাহির শেখ। ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন মহলে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গতবছরে সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও টয়লেট তৈরির জন্য টেন্ডার ডাকা হয়। ওই কাজগুলি পঞ্চায়েত এলাকার তিনটি বুথে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও ওই কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। জাহিরের দাবি, কাজ না হলেও কাজ হয়েছে বলে পঞ্চায়েত থেকে ওই টাকার বিল তোলা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর আরও অভিযোগ, পঞ্চায়েত আইন অনুসারে প্রধানের পরিবারের কোনও সদস্য ওয়ার্ক অর্ডার পেতে পারেন না। কিন্তু প্রধান ওয়ার্ক অর্ডার তাঁর ভাইকে পাইয়ে দিয়েছেন। যা পুরোপুরি অবৈধ।
জাহির বলেন, এখন শুনছি প্রধান নাকি চরে বিএসএফের জন্য ওই কাজ করেছেন বলে দাবি করছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কেন মিটিং করে সবাইকে জানিয়ে সেই কাজ করেনি? আর আমাকেও জানাননি। সেই কারণে আমি প্রশাসনিক বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেছি ।
পঞ্চায়েত প্রধান মজিবর রহমান বিশ্বাস বলেন, আমি বিরোধী রাজনৈতিক দল করি। তাই রাজনৈতিক কারণেই আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই সময়ে সীমান্তে বিএসএফকে জিরো পয়েন্টে যাওয়ার একটা অর্ডার এসেছিল। কিন্তু সেখানে শৌচালয় ও পানীয় জলের সমস্যার কারণে তাঁরা সেখানে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। সমস্যার বিষয়টি বিএসএফ আমাদের জানায়। ওই এলাকার চাষিরাও আমাদের কাছে গণস্বাক্ষর করে বিএসএফের জন্য শৌচালয় ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আর্জি করে। তাঁদের সেই সমস্যার বিষয়টি আমরা সদস্যদের সামনে তুলে ধরি। এরপরে তাঁদের সম্মতিতেই লিখিত রেজ্যুলেশন করে আমরা চরে বিএসএফের জন্য ওই কাজ করেছি। সেটা সবার অনুমতি নিয়েই করা হচ্ছে। আর পঞ্চায়েত প্রধানের পরিবারের লোক হলেই যে, টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এমন কোনও অর্ডার আমার জানা নেই। জলঙ্গির বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।