


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নদী, মহাসড়ক ও উপনগরী। এহেন অত্যাধুনিক মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের এসসি ভোট ব্যাংক ধরে রাখা নিয়ে অশনি সংকেত দেখছে পদ্মশিবির। এসআইআরের পর তাদের মধ্যে এনিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। কারণ, এখন রাজবংশী ও নমশূদ্রদের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়াতে ঝাঁপিয়েছে জোড়াফুল শিবির। তারা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সভা ও উন্নয়নের পাঁচালি পাঠ করছে। দু’পক্ষের এমন অবস্থান নিয়ে ভোটের ময়দান সরগরম।
শিলিগুড়ি শহরের উপকণ্ঠেই মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি ব্লক দু’টি। ব্লকগুলি বালাসন, পঞ্চনই, চামটা, রক্তি, মেচি সহ একাধিক নদীবেষ্টিত। সংশ্লিষ্ট নদীগুলির দু’পারে গড়ে উঠছে একাধিক ছোট ছোট উপনগরী। আকাশচুম্বি বহুতল। সংশ্লিষ্ট দু’টি ব্লকের চেহারা আরো বদলে দিয়েছে ১০ নম্বর ও ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, এশিয়ান হাইওয়ে এবং রেললাইন। এহেন ব্লক দু’টি নিয়েই গঠিত মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। এটি এসসিদের জন্য সংরক্ষিত। একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই কেন্দ্র বিজেপির কব্জায়। কিন্তু, এসআইআরের জেরে এই কেন্দ্রের এসসি ভোট ব্যাংক ধরে রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পদ্মশিবির।
স্থানীয় বিধায়ক বিজেপির আনন্দময় বর্মন অবশ্য বলেন, এসআইআরে কিছু ভোটারের নাম কাটা গেলেও আমাদের ভোটে তেমন প্রভাব পড়বে না। অতীতের বিভিন্ন ভোটের মতো এবারও আমাদের সঙ্গে থাকবেন এসসি ভোটাররা। নির্বাচনী প্রচার অভিযানে রাজবংশী ও নমশূদ্রদের কাছ থেকে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।
বিধায়ক যাই বলুন না কেন পদ্মশিবিরের অন্দরেই রাজবংশী ও নমশূদ্র ভোট ধরে রাখা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যে দলের একাংশ এনিয়ে সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করেছে। পদ্মশিবির সূত্রের খবর, ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে এই বিধানসভা কেন্দ্রের জনসংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৬১২ জন। কিন্তু, ২০২৫ সালে এখানে ভোটার ছিল ৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৫৩৪ জন। যারমধ্যে এসসি প্রায় ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি। তাতে রাজবংশী ও নমশূদ্ররা রয়েছেন। এরবাইরে নেপালি, হিন্দি, এসটি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। এবার এসআইআরে এখান থেকে বাদ গিয়েছে ৩৫ হাজার ১৩০ জন ভোটার। আর বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। বর্তমানে এখানকার ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪ জন।
পদ্মশিবিরের একাংশের বক্তব্য, দলের এই ঘাঁটিতে এত ভোটারের নাম বাদ যাবে তা অকল্পনীয়। এরমধ্যে এসসি ভোটার কত তা স্পষ্ট নয়। কাজেই, বিষয়টি যথেষ্ট চিন্তার। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল অবশ্য বলেন, নিজেদের এই ঘাঁটিতে দলের ফলাফল আরও ভালো করতেই এমন চর্চা করছি। এতে ভয়ের কিছু নেই।
এদিকে, এসআইআরের পর রাজবংশী, নমশূদ্র, উদ্বাস্তুদের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে উন্নয়নের পাঁচালি পাঠ, বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ, বাদ যাওয়া ভোটারদের ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করানোয় জোর দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা তথা মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, এসআইআরের জেরে রাজবংশী ও নমশূদ্র ভোট বিজেপি থেকে সরেছে। এবার এখান থেকে বিজেপি উৎখাত হবেই।