


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শেষে আগামী ১৪ মার্চ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাবেশ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রস্তাবিত ব্রিগেড সমাবেশে কাঙ্ক্ষিত ভিড় নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় রাজ্য বিজেপি। জানা যাচ্ছে, বঙ্গ বিজেপির প্রত্যেক বিধায়ক এবং সাংসদকে জমায়েতের ‘টার্গেট’ দেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে রাজ্যে নির্বাচনি টিকিট প্রাপ্তির অন্যতম শর্তও হতে চলেছে জমায়েতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার বিষয়টি। স্বাভাবিকভাবেই গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করছে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানত দলের উত্তরবঙ্গের নেতৃত্বের হাতেই থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশ ভরানোর গুরুদায়িত্ব। কারণ পদ্ম শিবিরের অভিমত, সারা রাজ্যের মধ্যে উত্তরবঙ্গেই দলের সংগঠন তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। প্রসঙ্গত, এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বিজেপির রাজনৈতিক এবং নির্বাচনি কর্মসূচি। মূলত দলের সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষার উদ্দেশেই রাজ্যজুড়ে এহেন নির্বাচনি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিজেপি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভোটের আবহে রাজ্য বিজেপির সংগঠন আদৌ মজবুত হয়েছে কি না, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবিত ব্রিগেড সমাবেশ তারই ‘লিটমাস’ পরীক্ষায় পরিণত হতে চলেছে। ফলে কিছুটা চাপে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, ব্রিগেড সমাবেশের ভিড় দেখেই আঁচ পাওয়া সম্ভব, রাজ্যে দলের সংগঠন সার্বিকভাবে কতটা শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি যে জেলা লক্ষ্যমাত্রা পূরণের যতটা কাছাকাছি থাকবে, সেই জেলাগুলির সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও অনেকটাই নিশ্চিত হতে পারবেন বিজেপি নেতৃত্ব। আর যেসব জেলা টার্গেটের কার্যত ধারেকাছেও পৌঁছতে পারবে না, বাংলার নির্বাচনি আবহে তাদের নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে দলকে। যদিও এবিষয়ে বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দলীয় নেতৃত্বের একাংশ বলছেন, যে
কোনো সভা-সমাবেশেই ভিড়
একটি বড় ইস্যু। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মুখে সেই ভিড়ই জনভিত্তির অন্যতম প্রধান পরীক্ষা। বিশেষ করে তা যদি প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশ হয়, তাহলে ধারেভারে তার
গুরুত্ব আলাদাই হবে। যে কোনো রাজনৈতিক দলই এমন পরিস্থিতিতে জমায়েতের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকে। বিজেপিকেও সচেতন থাকতে হচ্ছে।