Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মানিকতলায় সাধন পান্ডের গড় রক্ষায় ব্যর্থ কন্যা শ্রেয়া

সাধন পান্ডে নামটা রাজনীতির ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ ওজন বহন করত। মানিকতলার অলিগলি ঘুরলে এখনও লোকের মুখে মুখে শোনা যায় তাঁর নাম। ১৯৮৪ সাল থেকে তৎকালীন বড়তলা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হতেন তিনি।

মানিকতলায় সাধন পান্ডের গড় রক্ষায় ব্যর্থ কন্যা শ্রেয়া
  • ৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাধন পান্ডে নামটা রাজনীতির ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ ওজন বহন করত। মানিকতলার অলিগলি ঘুরলে এখনও লোকের মুখে মুখে শোনা যায় তাঁর নাম। ১৯৮৪ সাল থেকে তৎকালীন বড়তলা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হতেন তিনি। পরবর্তীকালে বড়তলা বিধানসভা কেন্দ্র অবলুপ্ত হয়ে যায় এলাকা বিন্যাসের জেরে। মানিকতলার সঙ্গে বড়তলা সংযুক্ত হয়ে তৈরি হয় মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র। সেই কেন্দ্রেও তাঁকে হারানো বিরোধীদের সাধ্য ছিল না। রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন সাধন। ২০২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর মানিকতলা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন তাঁর স্ত্রী সুপ্তি পান্ডে। ২০২৬ সালে সাধন-সুপ্তির কন্যা শ্রেয়া পান্ডে প্রার্থী হন। উত্তর কলকাতার এই গড় রক্ষার দায়িত্ব শ্রেয়ার হাতে দেয় তৃণমূল। কিন্তু তিনি বাবার মতো সফল হতে পারলেন না। বিজেপির তাপস রায়ের কাছে ১৫ হাজার ৬৪৪ ভোটে পরাজিত হলেন সাধনকন্যা শ্রেয়া। 

Advertisement

সোমবার বিধানসভা ভোট গণনার দিন নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যান শ্রেয়া। সকাল দশটা নাগাদ খবর আসে তিনি ৪৭৬ ভোটে পিছিয়ে। সেই ব্যবধান বাড়তেই থাকে। দুপুর ১২টা নাগাদ চতুর্থ রাউন্ডের শেষে শ্রেয়া পিছিয়ে যান ৩ হাজার ৭০৪ ভোটে। তারপর তাপসবাবু জিততেই থাকেন। ষষ্ঠ রাউন্ডের পর ৪ হাজার লিড। শেষপর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জেতেন তাপস।
এদিন সকালেই গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান দুই প্রার্থী। ভোট গণনার কয়েক রাউন্ড পর শ্রেয়া কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, অধিকাংশ ইভিএমের ব্যাটারির চার্জ ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ দেখাচ্ছে। ভোটের পর যা থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে তাঁর এই অভিযোগ খুব একটা দাগ কাটতে পারেনি। গণনা স্বাভাবিক ছন্দেই এগিয়ে চলে। শেষপর্যন্ত তাপস রায় পান ৭৬ হাজার ৩৭০ ভোট। আর শ্রেয়া পান্ডে পান ৬০ হাজার ৭২৬ ভোট। 
২০২৪ সালের মার্চ মাসে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন তাপসবাবু। চব্বিশের নির্বাচনে কলকাতা উত্তর থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন। এবার তাঁকে নিরাশ করেনি মানিকতলা। দু’হাত তুলে আশীর্বাদ দিয়েছে। বিধানসভায় যাওয়ার পথ সুনিশ্চিত করে দিয়েছেন মানিকতলার বাসিন্দারা।

সম্পর্কিত সংবাদ