


মুম্বই: সালটা ২০১১। দীর্ঘ ২৮ বছর পর দেশকে ওডিআই বিশ্বকাপ জিতিয়ে মুম্বইয়ে নিজের বাড়িতে ফিরছেন শচীন তেন্ডুলকর। বান্দ্রার পথে জনসমুদ্র— গাড়ি থেমে যায় বাড়ি পৌঁছনোর আগেই। পায়ে হেঁটে মানুষের ভালোবাসার জোয়ারে ভাসছেন মাস্টার ব্লাস্টার্স। দু’একটা বাড়ি দূরে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে ১১ বছরের এক বালিকা। তার তীক্ষ্ণ চোখ অগণিত মাথার ভিড়েও খুঁজে নিয়েছে শচীনকে। ঠিকমতো মুখ দেখা না গেলেও অনুভব করছে সীমাহীন শ্রদ্ধা, আলো ছড়ানোর স্বপ্ন। সেদিনই তার মনের গভীরে জন্ম নেয় প্রতিজ্ঞা— আমিও একদিন ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাব! মেয়েটি আর কেউ নন, জেমামাইমা রডরিগেজ। পরম পরাক্রমশালী অজিদের চোখে চোখ রেখে যুদ্ধজয়ী বীরাঙ্গনা।
বৃহস্পতিবার জেমাইমার অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংসই ভারতকে এনে দিয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট। ৩৩৯ তুলেও মুখ থুবড়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। ঘরে ঘরে উচ্চারিত হচ্ছে জেমাইমার নাম। প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের আশা যে আগলেছেন তিনি! ১৪ বছর আগে বিশ্বজয়ী শচীনের বীরগাথায় অনুপ্রাণিত ধন্যি মেয়েকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে অধরা মাধুরীলাভের স্বপ্ন। অথচ জেমাইমার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু হকির মাঠে। খেলতে নেমেছিলেন মুম্বইয়ের অনূর্ধ্ব-১৭ হকিতে। কিন্তু পরে তাঁর ক্রিকেট স্কিল দেখে বাবাই পরামর্শ দেন ২২ গজকে বেছে নেওয়ার। বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে বাবাকে জড়িয়ে ধরে জেমাইমার কান্নায় তাই অনেক অভিব্যক্তিই ফুটে উঠেছে। লড়াকু কন্যাকে অভিনন্দন জানাতে দেরি করেননি শচীন। কিংবদন্তি গাভাসকর আবার কথা দিয়েছেন, বিশ্বকাপ জিতলে জেমাইমার গিটারের ঝংকারে গান গাইবেন তিনি। সানির কথায়, ‘জেমাইমার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। অসাধারণ ইনিংস খেলল। গত বছর বিসিসিআইয়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মঞ্চে ওর সঙ্গে গান গেয়েছিলাম। ও খুব ভালো গিটার বাজায়। ও রাজি থাকলে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পর ফের ওর সঙ্গে গান গাইতে চাই। আশা করি, আমার ইচ্ছা পূরণ হবে।’