


সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: মাথাভাঙায় ভোট প্রচারে এগিয়ে ঘরের ছেলে সাবলু বর্মন। ইতিমধ্যে মাথাভাঙা বিধানসভা এলাকার ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও মাথাভাঙা শহরে দুই ধাপে প্রচার সেরেছেন তৃণমূলের প্রার্থী। অপরদিকে, বিজেপির প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের গায়ে ‘বহিরাগত’ তকমা। তিনি দিনহাটার বাসিন্দা। ভোটের প্রচারের জন্য মাথাভাঙায় বাড়ি ভাড়াও নিয়েছেন।
পদ্ম শিবিরের স্থানীয় নেতাদের দাবি, তাঁদের প্রার্থী নিশীথ শুধুমাত্র বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলিতে গিয়ে প্রচার করছেন। চারদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বেষ্টনী থাকায় সাধারণ মানুষ তাঁর ধারেকাছে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে, ঘরের ছেলে হওয়ায় বাড়তি অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছেন সাবলু। তিনি অনায়াসেই মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ছেন। লোকজনও তাঁকে কাছে পাচ্ছেন। ঘরের ছেলের মতোই তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ান। এই ইমেজ প্রচার তাঁকে বাড়তি মাইলেজ দিচ্ছে।
মাথাভাঙা-২ ব্লকের নিশিগঞ্জ-২ পঞ্চায়েতের রুনিবাড়ি গ্রামে বাড়ি সাবলু বর্মনের। খুব কম বয়সে কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে ফালাকাটা কলেজে যোগদান করেছিলেন তিনি। দীর্ঘসময় কলেজের পড়ানোর পর গত কয়েকবছর ধরে তিনি কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। বাংলায় পিএইচডি এই অধ্যাপক কিন্তু নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও বাড়ি করেননি। একেবারে ঘরের ছেলে হিসাবেই পরিচিত সাবলু পাঁচ বছর তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি মাথাভাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সারা বছর নিয়ম করে সকালবেলা তাঁর কাছে গ্রামের লোকজন আসে নানা সমস্যা নিয়ে। সাধ্যমতো সমস্যা সমাধান করে দেন তিনি। এই জায়গায় সাবলু একেবারে ঘরের ছেলে। প্রচারে বেরিয়ে তাই বাড়তি সাড়া পাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী।
অপরদিকে, সাবলুর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক এলাকার বাসিন্দা নন। ভেটাগুড়ির বাসিন্দা। সাংসদ থাকাকালীন দল তাঁকে দিনহাটায় একুশের ভোটে দাঁড় করিয়েছিল। জিতেও ছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ায় বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন বলে ওই আসনে উপনির্বাচন হয়। পরবর্তীতে চব্বিশের লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে হেরে যান নিশীথ। দিনহাটা ‘সেফ’ নয়! বুঝতে পেরে দল এবার তাঁকে মাথাভাঙায় প্রার্থী করেছে। প্রচারে আসছেন, কিন্তু সারাক্ষণ কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সাঙ্গপাঙ্গরা ঘিরে থাকছে তাঁকে। সাধারণ মানুষ তাঁর কাছেই যেতে পারছে না। এমনকী বিজেপির নিচুতলার কর্মীরাও নিশীথের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান না বলে অভিযোগ ওঠে।
সাবলু বলেন, আমি গ্রামের ছেলে। কলেজে পড়িয়েছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই। গ্রামের বাড়িতে থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করতে পেরে ভালো লাগে। প্রচারে গ্রাম-শহরের সব মানুষ কাছে এসে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন।
অন্যদিকে, বিজেপির কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদক মনোজ ঘোষ বলেন, বিজেপির প্রার্থী কে হয়েছেন, সাধারণ কর্মীদের কাছে সেটা বড় বিষয় নয়। দল সবার আগে। নিশীথ প্রামাণিক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ফলে তাঁর নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো তো হবেই।