


পিনাকী ঢোলে, সিউড়ি: গত বিধানসভা নির্বাচনে লালমাটির জেলায় ঘাসফুল ঝড়ের মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল দুবরাজপুর। জেলার একমাত্র আসন হিসেবে সেখানে ফুটেছিল পদ্ম। ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই ‘ক্ষত’ মুছতে এবার মরিয়া শাসকদল। হাইকমান্ডের স্পষ্ট নির্দেশ, যে কোনও মূল্যে দুবরাজপুর পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই লক্ষ্যেই প্রাক্তন বিধায়ক নরেশচন্দ্র বাউরিকে প্রার্থী করে চমক দিল তৃণমূল। অন্যদিকে, নিজেদের জেতা গড় হাতছাড়া করতে নারাজ গেরুয়া শিবিরও। তারা ফের বাজি ধরেছে বিদায়ী বিধায়ক অনুপ সাহার উপর।
মঙ্গলবার দুবরাজপুর বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে নরেশ বাউড়ির নাম ঘোষণা হতেই শহরজুড়ে উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়। পুরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডে দেওয়াল লিখন করে প্রচার শুরু হয়। সেইসময় প্রার্থী নিজে উপস্থিত না থাকলেও শহর সভাপতি স্বরূপ আচার্য, পুরসভার চেয়ারম্যান পীযূষ পান্ডে, তৃণমূল নেতা গুরুপদ দাসদের হাত ধরে চলে প্রচারের প্রস্তুতি। স্বরূপবাবু বলেন, দলের প্রার্থীকে জেতাতে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাব। এবারে দুবরাজপুর আসনটি পুনরুদ্ধার করবই। রাত ৮টা নাগাদ দুবরাজপুরে গিয়ে পৌঁছান নরেশ। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, তার মর্যাদা দেব। দলের নির্দেশ আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। গতবার সামান্য ভুলের জন্য এই আসনটি আমাদের হাতছাড়া হয়েছিল, কিন্তু এবার দুবরাজপুরের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দেবেন।
বোলপুরের জামবুনির বাসিন্দা নরেশ একসময় অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরেই রাজনীতির আঙিনায় পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তাঁর বিধায়ক হওয়ার নেপথ্যেও অনুব্রতর বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। সেবার ছ’বারের ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক বিজয় বাগদিকে হারিয়ে বিধানসভায় গিয়েছিলেন নরেশ। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সমীকরণ। ২০২১ সালে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি দল। যার খেসারত দিতে হয়েছিল দলকে। ওই কেন্দ্রে হারতে হয়েছিল তৃণমূলকে। বিধানসভাটি হাতছাড়া হওয়ার পর জেলা রাজনীতিতে কার্যত কোণঠাসা হতে থাকেন নরেশ।
তারপর নরেশকে বোলপুর শহর সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলেও সেই পদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখনই জল্পনা শুরু হয়েছিল তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু অনুব্রত জেলে থাকাকালীন জেলার রাজনীতিতে কাজল শেখের প্রভাব বৃদ্ধি পেতেই নতুন মোড় নেয় নরেশের কেরিয়ার। কাজলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। কয়েক মাস আগেই তাঁকে জেলার এসসি ও ওবিসি সেলের সভাপতি করে দল। সেইসময় থেকেই তাঁর পুনরায় উত্তরণ শুরু হয়। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এক ভার্চুয়াল বৈঠকে স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হঠাৎ বলতে শোনা যায়, ‘যেহেতু দুবরাজপুরে আমাদের বিধায়ক নেই, তাই নরেশই দেখুক।’ তখন থেকেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়। মঙ্গলবার সেই জল্পনাতেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ল। নেতৃত্বের আশা, পুরানো সেনাপতিকে দিয়েই এবার গেরুয়া দুর্গ জয় করা সম্ভব হবে।
যদিও পাল্টা বিজেপির প্রার্থী অনুপবাবু বলেন, তৃণমূল কাকে প্রার্থী করল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। দুবরাজপুরের মানুষ গত নির্বাচনেই তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এবার গোটা রাজ্য থেকেই মানুষ তৃণমূলকে উৎখাত করবে।