সংবাদদাতা, বোলপুর: আগামী কাল, শুক্রবার দোল পূর্ণিমা। তবে এবছর দোলের আগেই মঙ্গলবার ঘরোয়াভাবে বসন্ত উৎসব উদ্যাপন করেছে বিশ্বভারতী। দোলের দিন সোনাঝুরিতে বসন্ত উৎসবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনদপ্তর। জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় আবির-রং খেলা, ভিডিওগ্রাফি, ড্রোন ওড়ানো প্রভৃতি ওই এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা কোথায় দোল উদ্যাপন করবেন সে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকী, আগত পর্যটকরা কোন এলাকায় ভিড় জমাবেন সে নিয়েও উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন ও পুলিস। সেকারণে উৎসব আয়োজন করতে চলেছে বোলপুর পুরসভার শাসকদলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি। তাতে কিছুটা হলেও দুধের স্বাদ ঘোলে মিটবে, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিসও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।
বসন্ত উৎসব বিশ্বভারতীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। একসময় শুধুমাত্র বিশ্বভারতী এই উৎসব উদ্যাপন করত। ফলে দেশ-বিদেশে নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা শান্তিনিকেতনে ভিড় জমাতেন। তবে রবীন্দ্র ভাবধারা ও ঐতিহ্য বর্তমানে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এখানকার বসন্ত উৎসবের আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। ২০১৯ সালের বসন্ত উৎসবে পর্যটকদের ভিড় কার্যত জনসমুদ্রের চেহারা নেয়। ভিড়ের চোটে কয়েক ঘণ্টার জন্য বোলপুর শহর কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। ওই বছরই সর্বসাধারণের জন্য শেষবারের মতো বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। তারপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়। পর্যটনের স্বার্থে বিকল্প ব্যবস্থাও চালু করে বোলপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড। যদিও বনদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার কারণে এবছর পুরসভার ১নম্বর ওয়ার্ড সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাটে বসন্ত উৎসব আয়োজন হচ্ছে না। তবে, পুরসভা ২, ৫, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যে বসন্ত উৎসব উদযাপন করবে বলে জানিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ। তিনি বলেন, শান্তিনিকেতন বর্তমানে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। তাই ক্যাম্পাসের সুরক্ষার স্বার্থে কর্তৃপক্ষকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বনদপ্তরও পরিবেশের স্বার্থে সেই পথে হেঁটেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিনোদনের কথা ভেবে তৃণমূল পরিচালিত বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি বসন্ত উৎসব আয়োজন করেছে। আশা করি সফলভাবে অনুষ্ঠানগুলি আয়োজিত হবে।