অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: জাতীয় পাখি, জাতীয় পশুর নাম অনেকেরই জানা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পাখির নাম কতজন জানেন? কিংবা রাজ্য পশু? কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বায়োডাইভার্সিটি হেরিটেজ সাইট? এবার বন ও বন্যপ্রাণের এসব নানা বিষয় গল্পের ছলে শোনাচ্ছে রুদ্র-কিরণ! রুদ্রর পরিচয় হল, কালো-হলুদ ডোরাকাটা বাঘ। কিরণের পরিচয় হল সে মাছরাঙা পাখি। রুদ্র-কিরণের কমিক্স বানিয়ে এমনই অভিনব প্রচার শুরু করেছে বনদপ্তর। বনদপ্তরের সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে তারা প্রায়ই নতুন নতুন গল্প বলছে। তাদের কমিক্সের নামকরণও করা হয়েছে—‘গাছ নিয়ে কিছুক্ষণ, সঙ্গে রুদ্র-কিরণ’।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে অরণ্য সপ্তাহ। তার আগেই এই দুই চরিত্রের আত্মপ্রকাশ। রুদ্রকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে। তার মুখে সব সময় হাসি। গলায় সবুজ রঙের স্কার্ফ। তাতে লেখা, ‘প্রকৃতির সঙ্গে নতুন বন্ধন’। কাঁধে একটি ঝোলা ব্যাগ। তাতে পাতার ছাপ। মাছরাঙার চেহারাও সুন্দর। কমিক্স আকারে দু’জনের কথোপকথনই গল্প আকারে তুলে ধরা হচ্ছে। যেমন, জঙ্গলে হেঁটে যাচ্ছে রুদ্র। পিছন থেকে উড়ে এসে কিরণ তাকে জিজ্ঞাসা করছে, ‘এই রুদ্র, তুই তো আমাদের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পশু, তাই না?’ হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে যাওয়া রুদ্র উত্তরে বলছে, ‘আরে না! আমি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। আমাদের রাজ্যপশু বাঘরোল।’
কিরণ তখন অবাক। তার পাল্টা দাবি, ‘তাই নাকি! তাহলে নিজের চোখে বাঘরোল দেখলাম না কেন?’। এই প্রশ্নের রুদ্র সচেতন করছে সবাই। সে বলছে, ‘কারণ জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে বাঘরোলও। আজ ওরা বিপন্ন! তাই তো আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। জলাভূমি বাঁচলে, তবেই বাঁচবে বাঘরোল।’ আবার হাসিমুখে রুদ্র জিজ্ঞাসা করছে, ‘এই কিরণ, তুই কি জানিস আমাদের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পাখি কে? কিরণ উড়তে উড়তে হাসিমুখে উত্তর দিচ্ছে, ‘আমিই তো! আমি সাদা-গলা মাছরাঙা, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পাখি।’
এছভাবে ছোটো ছোটো সংলাপে তারা গল্প বলছে। বিশেষ করে ছোটোদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রুদ্র-কিরণের গল্প।