


বেঙ্গালুরু: উলট পুরাণ। বৃহস্পতিবার এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকল কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক বিধানসভা। নমস্তে সদা বৎসলে...। ভরা বিধানসভায় আরএসএসের প্রার্থনা সংগীত গেয়ে উঠলেন কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। আর তখনই টেবিল বাজিয়ে মজা নিতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। যদিও পুরো ঘটনায় স্তম্ভিত ছিল কংগ্রেস। কী করা উচিত বুঝতে না পেরে নীরব ছিলেন হাত শিবিরের বিধায়করা। আর এই ঘটনার পর থেকেই ফের জল্পনা শুরু কর্ণাটক রাজনীতিতে। একাংশের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী পদ হোক বা প্রশাসনিক কাজ, শিবকুমার ও সিদ্ধারামাইয়ার মাঝে বরাবর সংঘাত হচ্ছে। আরএসএসের গান গেয়ে জল মাপছেন না তো শিবকুমার। যদিও দলবদলের যাবতীয় ইঙ্গিত উড়িয়ে দিয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ জবাব, আমার রক্তে কংগ্রেস।
এদিন বিধানসভায় বেঙ্গালুরুতে আরসিবির বিজয় উৎসবে পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। তখন শিবকুমারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান বিরোধীরা। জবাবে শিবকুমার বলেন, এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা। পুরো পরিস্থিতির সামাল দিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তিনি কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং একজন মন্ত্রী। শুধুমাত্র নিজের কর্তব্য করেছেন। এপ্রসঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গও তোলেন শিবকুমার। এমন সময় বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়ক আর অশোক বলে ওঠেন, ‘আপনি নিজেই বলেছিলেন, একসময় আপনিও আরএসএসের চাড্ডি পরতেন।’ এরপরই আরএসএসের প্রার্থনা সংগীত গেয়ে ওঠেন শিবকুমার। মুহূর্তে টেবিল বাজাতে শুরু করে দেন বিজেপি বিধায়করা। এই ঘটনার পর থেকেই শিবকুমারের দলবদল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়।
যদিও শিবকুমারের সাফ জবাব, ‘আমি জন্মগত কংগ্রেস। আমার রক্তে কংগ্রেস। বিজেপি বা আরএসএসে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। রাজ্যে বিজেপি-আরএসএস ধীরে ধীরে তাদের জাল বিস্তার করছে। তাই তাদের নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিয়েছি। প্রার্থনা সংগীত গেয়ে এটাই বোঝাতে চাই - আমি ওদের গতিবিধি জানার চেষ্টা করছি। আর অনেক গভীর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছি।’