নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: চার ফুট বাই চার ফুট ছাউনিবিহীন একটা ছোট্ট দালান। তারমধ্যে রয়েছে শিলাখণ্ড। সেটি বনদেবীর মন্দির। গত পাঁচ বছর ধরে এই শিলাখণ্ড যথাযথ মর্যাদায় একটি বেদি বানিয়ে সেখানে স্থানান্তর করতে চায় পিএইচই দপ্তরের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট(পিআইইউ)। কারণ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ১২০০কোটি আর্থিক সহায়তায় নন্দীগ্রামে যে জল প্রকল্প রূপায়িত হবে, তার ওয়াটার স্টোরেজ এলাকার মধ্যে পড়ে গিয়েছে ওই বনদেবীর ছোট্ট মন্দির। সেই মন্দির স্থানান্তর না করলে জল সংরক্ষণের জন্য পরিকাঠামোর কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না। কিন্তু, বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা প্রসূন মিশ্র। তিনি নিজেকে মন্দির কমিটির সভাপতি বলে দাবি করে ওই শিলাখণ্ড স্থানান্তরে নারাজ। একটা সময় শ্রমদপ্তরের সেল্ফ লেবার অর্গানাইজার(এসএলও) পদে ছিলেন। সেই সুবাদে বিজেপি মনোভাবাপন্ন সরকারি কর্মচারী পরিষদের ডিস্ট্রিক্ট কোর কমিটির সদস্যও। বর্তমানে তিনি এসএলও নেই। তবে, সংগঠনের পদে আছেন। পুরোপুরি বিজেপি মনোভাবাপন্ন প্রসূনবাবুকে বোঝাতে গত ৭আগস্ট জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত এবং নন্দকুমারের বিধায়ক নির্মল খাঁড়া বনভেড়ায় ওই প্রজেক্ট দেখতে গিয়েছিলেন। তারপর ২১দিন কেটে গিয়েছে। এখনো তাঁরা ওই সেই মন্দির স্থানান্তর নিয়ে প্রসূন মিশ্রকে বোঝাতে পারেননি। যে কারণে বনভেড়ায় জল সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরির কাজ আটকে রয়েছে।
উল্লেখ্য, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ১২০০কোটির আর্থিক সহায়তায় নন্দীগ্রাম-১ ও ২ব্লকে প্রত্যেক বাড়িতে পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ করার কাজ চলছে। ২০১৯-’২০সাল থেকে ওই কাজ শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ওই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু, নানা কারণে সেই প্রকল্প এখনো চালু হয়নি। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রকল্পের জন্য গঠিত হয়েছে প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট। তমলুকে পুরানো জেলা পরিষদ ভবনে তার অফিস তৈরি হয়েছে। নামী কোম্পানি ওই কাজ করছে।
নন্দকুমার ব্লকের মীরপুরে রূপনারায়ণ নদ থেকে জল তুলে ওই ব্লকের বনভেড়ায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে শোধনের পর তা পাইপ লাইনে পৌঁছে যাবে নন্দীগ্রামে। মেগা এই প্রকল্প রূপায়ণে নানা জট ছিল। ধীরে ধীরে সেইসব জট কাটিয়ে আপাতত শেষের পথে। কিন্তু, বনভেড়ায় দীঘাগামী ১১৬বি জাতীয় সড়কের কাছে একটি বনদেবীর ছোট্ট মন্দির আপাতত এই প্রকল্পে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওই মন্দির কমিটির সভাপতি প্রসূনবাবু বলেন, এটি প্রায় ৩০০বছরের প্রাচীন মন্দির। ছোটো হলেও মাহাত্ম্য রয়েছে। ওই এলাকায় জবরদখল করে একজন একটি তিনতলা বাড়ি বানিয়েছেন। সেই বাড়ি বাঁচাতে মন্দিরকে প্রজেক্ট এলাকার মধ্যে ধরা হয়েছে। আমাদের দাবি, ওই বাড়ি ভাঙতে হবে।
এনিয়ে ওই প্রজেক্টের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, আমরা জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ওই মন্দির স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছি। এজন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে দেওয়া হবে। টাইলস বসিয়ে ছিমছাম করে দেওয়া হবে। কিন্তু, প্রসূনবাবুকে রাজি করানো যাচ্ছে না। আমরা বলপ্রয়োগের পরিবর্তে বুঝিয়ে সুজিয়ে এই কাজটা করতে চাই। কিন্তু, পাঁচ বছরে ধরে এই প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে না। এই মুহূর্তে প্রকল্প বাস্তবায়নে এটাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।