Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মেসির মায়ামির অদূরেই শেষ স্বপ্নপূরণের লড়াই রোনাল্ডোর

মায়ামির কাছে রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্নের লড়াই শুরু। ৪১ বছর বয়সে মহাতারকা চেষ্টায়। বিস্তারিত পড়ুন।

মেসির মায়ামির অদূরেই শেষ স্বপ্নপূরণের লড়াই রোনাল্ডোর
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পাম বিচ গার্ডেন্স। বিশ্বকাপে রোনাল্ডোদের বেসক্যাম্প। ৮০ কিলোমিটার দূরে ইন্তার মায়ামি ক্লাব। গত তিন বছর ধরে যা লিও মেসির ঠিকানা। সেক্ষেত্রে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ডেরা থেকে অনতিদূরে শেষ স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার চেষ্টা চলছে সিআরসেভেনের। সোমবার অনুশীলনের মাঠ শিশিরে ভেজা। আকাশে সূর্যের রং ধরেনি। কিন্তু সবুজ গালিচায় এক জোড়া বুটের দাপাদাপি শুরু। তিনি একাকী, নিঃসঙ্গ। কখনো দৌড়াচ্ছেন, কখনো কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। দৃষ্টিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। ৪১-এর রোনাল্ডোর মন্ত্র, ‘নাও অর নেভার’। ঘণ্টাদুয়েক ঘাম ঝরালেন সিআরসেভেন। তারপর অনুশীলনে নামল পর্তুগাল। ততক্ষণে রোনাল্ডো ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের জুতো খুলে ফুটবল শ্যু পরছেন। বের্নার্ডো সিলভা, কানসেলোরা মহাতারকার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে! হয়তো ভাবছেন, ‘এ সত্যিই মানুষ তো, নাকি মেশিন!’ ব্রুনো ফার্নান্ডেজও দূর থেকে আড়চোখে দেখলেন। মাঠের চুম্বক রোনাল্ডোই। কোচ রবার্তো মার্তিনেজের চোখেও খুশির ঝিলিক। ৪১ বছর বয়সি রোনাল্ডোর মধ্যেই সেই দামাল ব্যাপারটা এখন নেই ঠিকই। কিন্তু তিনি জানেন, বুধবার হিউস্টনে আনকোরা কঙ্গোকে বধ করতে মহাতারকার চেনা ফর্মের ৫০ শতাংশই যথেষ্ট। তবে পাম বিচ গার্ডেন্স থেকে রোনাল্ডোদের খেলতে যেতে হবে হিউস্টনে। দূরত্ব শুনলে চমকে উঠবেন, ১৭৮৮ কিলোমিটার।

Advertisement

ছ’টা বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব। ২২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৪৩টি গোল। ইউরো কাপ, নেশনস লিগ, ক্লাব পর্যায়ে ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, সৌদি আরব—চারটি দেশের লিগ শিরোপা। পাঁচটা ব্যালন ডি’ওর। সবকিছুই রয়েছে ক্যাবিনেটে। নেই শুধু বিশ্বকাপ। আর সেই চাপ তিনি বেশ অনুভব করছেন। কারণ, কাতারের মাটিতেই বিশ্বসেরা হয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি। এখন এলএমটেনের অনুরাগীরা গলার শিরা ফুলিয়ে বলছেন, ‘আমাদের বিশ্বকাপ আছে।’ রোনাল্ডো অবশ্যই বলতে পারেন, তাঁর প্রবল ইচ্ছেশক্তি আছে। কিন্তু তাতে চিঁড়ে ভিজবে না। তাই যে কোনো মূল্যে বিশ্বকাপ ছুঁতে মরিয়া পর্তুগিজ মহাতারকা। ‘দ্য লাস্ট ডান্স’।
লিও মেসির সঙ্গে তাঁর প্রচুর মিল। আবার পার্থক্যও অনেক। সবচেয়ে বড় তফাত, বাঁ পায়ের শিল্পীর জন্য তাঁর সহযোদ্ধারা মাঠে জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে পারেন। আর রোনাল্ডো ব্যর্থ হলেই পর্তুগাল শিবিরে ব্রুনো ফার্নান্ডেজরা ঠোঁট চিপে হাসবেন। সিআরসেভেন জানেন সবকিছুই। আর তাই সব প্রতিবন্ধকতাকে হারানোর জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন একটাই শব্দ— লড়াই। যা তাঁর রক্তেই। মাদেইরার দরিদ্র পরিবারে ছোটোবেলায় দু’বেলা খাবার জুটত না সিআরসেভেনের। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে মাত্র ১২ বছর বয়সেই পরিবার ছেড়ে স্পোর্টিং লিসবনের অ্যাকাডেমিতে আসেন। জীবনের প্রতিটি পদে লড়াই করে আজ মহাতারকা। তাই চাইলেও রোনাল্ডোর পথের কাঁটা হতে পারবেন না ব্রুনো ফার্নান্ডেজরা।
হিউস্টনের রাস্তাতেও আজ অন্য হাওয়া। বাফেলো বাউ পার্ক সকাল থেকেই লাল-সবুজে সেজেছে। পর্তুগালের জার্সি, পতাকা, গালে ৭ নম্বর এঁকে ভিড় ক঩রেছেন সমর্থকরা। কেউ লিসবন থেকে এসেছেন তো কেউ পোর্তো থেকে— টেক্সাসের এই শহরটা যেন এক চিলতে পর্তুগাল। ব্রাজোস নদীর ধারের বেঞ্চে বসে এক ভদ্রলোক আবার চোখ মুছছেন। হাতে রোনাল্ডোর সাত নম্বর জার্সি। মহাতারকাকে শেষবার বিশ্বকাপে দেখবেন ভেবেই বোধহয় আবেগপ্রবণ। আমেরিকায় যাঁরা কোনোদিন ফুটবল দেখেননি, তাঁরও রোনাল্ডোর জন্য কঙ্গো-পর্তুগাল ম্যাচের টিকিট কেটেছেন। সম্প্রতি কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে স্পেনকে আটকে চমক দিয়েছে। তা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আত্মবিশ্বাসে ফুটছে কঙ্গো। কিন্তু বুধবারের হিউস্টন রোনাল্ডোময় করতে তৈরি অনুরাগীরা। তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন, ক্রিশ্চিয়োনোর লক্ষ্যভেদের পর গোটা স্টেডিয়াম একসঙ্গে চিত্কার চিৎকার করবে, সিউউউউউউ...... ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ