ডালাস: কালচে নীল ট্র্যাক আপার। বুকের কাছে জ্বলজ্বল করছে পর্তুগালের লোগো। নরম আলোতেও ঝলমলে ডায়মন্ড রিং। টিম বাস থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নামতেই কয়েক হাজার ডেসিবেলের গর্জন। মনে হতে বাধ্য, এই বোধহয় স্পেনের জালে বল জড়ালেন সিআরসেভেন। নিজের ইনস্টাগ্রামে ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। টেক্সাসের সিলিকন ভ্যালিতে পৌঁছে বার্তাও দিয়েছেন পর্তুগিজ মেগাস্টার— ‘হ্যালো ডালাস’! মুহূর্তে তা ভাইরাল। স্প্যানিশ আর্মাডার মুখোমুখি হওয়ার আগে রোনাল্ডোই গোটা দেশের নায়ক। নিত্যনতুন স্টোরিতে সরগরম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বিশ্বকাপের পরেই কি বুটজোড়া তুলে রাখবেন তিনি? কয়েকদিন আগে সেই সম্ভাবনা আরও উসকে দিয়েছেন রোনাল্ডোর বোন। তাঁর দাবি, মহাতারকার বিদায় আসন্ন। আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপর? নাহ। বিশ্বজোড়া ভক্তকূল এখনই তা নিয়ে ভাবতে নারাজ। বরং প্রতিটা মিনিট উপভোগ করতে তৈরি লক্ষ লক্ষ অনুরাগী। ঠিক যেন ‘কিছুক্ষণ আরও না হয় রহিতে কাছে।’
৪১ বছর ১৮৭ দিনের রোনাল্ডো। তাঁর হাঁটুর বয়সি লামিনে ইয়ামাল। ডালাস স্টেডিয়ামে ধুন্ধুমার যুদ্ধের আগে তাঁরাই দুই শিবিরের সেনানায়ক। তিকিতাকা বনাম পাসিং ফুটবলের ডুয়েল। একদিকে অভিজ্ঞতা, নাছোড়বান্দা মনোভাব। বিপরীতে তারুণ্যের উন্মাদনা। তিকিতাকার কলকলে ঝরনা। গত ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধেও জাল কাঁপিয়েছেন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপের নক-আউটে প্রথম গোলের স্বাদে উজ্জীবিত। সামগ্রিকভাবে কাপযুদ্ধের আসরে লক্ষ্যভেদের সংখ্যায় পর্তুগিজ কিংবদন্তি ইউসেবিওকে (৯) টপকে গিয়েছেন সিআরসেভেন (১০)। এই জন্যই কথায় বলে, বয়স তো নেহাৎ সংখ্যামাত্র! কোচ রবার্তো মার্তিনেজের হাতে স্বপ্নের মাঝমাঠ। নেভেস, ব্রুনো, নেটোর মতো ফিডার। পিছিয়ে থাকলে গতি বাড়ছে চকিতে।
স্পেনের প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারিতে লাল জার্সির ঢেউ। অধিকাংশেরই পিঠে লেখা ইয়ামাল। তাঁকে ঘিরেই স্প্যানিশ আর্মাডার যাবতীয় কারিকুরি। লুই ডে লা ফুয়েন্তের দল পাস খেলছে প্রচুর। লেফট উইং ব্যাক কুকুরেয়া ক্রমাগত ওভারল্যাপে পারদর্শী। পেড্রি, রড্রি, ড্যানি ওলমো ফর্মে থাকলে পর্তুগালের চিন্তা বাড়বে। নিঃশব্দে সাবমেরিনের মতো প্রতিপক্ষকে আঘাত হানছে ইয়ামালের পাস। কিন্তু পর্তুগালের বিরুদ্ধে কাজটা এত সহজ নয়। রাফায়েল লিয়াও ক্রমাগত ওভারল্যাপে চাপ বাড়াচ্ছেন। সবমিলিয়ে রোনাল্ডো-ইয়ামালের ডুয়েল জমবে ভালো।