দুবাই: কারা যেন রোহিত শর্মার অবসর নিয়ে চর্চায় মেতেছিলেন! রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত অধিনায়কের ধুমধাড়াক্কা তাঁদের গালে হয়ে উঠল জোরাল থাপ্পড়। এদিনের দাপুটে ইনিংসের পর হিটম্যানকে বিদায় জানানোর চিন্তাভাবনার সলিল সমাধি ঘটছে মরুভূমিতেই। জয়ের পর স্টাম্প হাতে বিরাট কোহলির সঙ্গে রোহিতের ডান্ডিয়া নাচে ফুটে উঠল চাপমুক্তির ইঙ্গিত। এখনই যে অবসরের কোনও ভাবনা তাঁর নেই, সেটাও স্পষ্ট করে দেন রোহিত। তিনি বলেন, ‘কোনও ফিউচার প্ল্যান নেই আমার। যেমন চলছে তেমনই চলবে। ২০১৯ ওডিআই বিশ্বকাপে প্রচুর রান করলেও ট্রফি আসেনি। তাই আনন্দ পাইনি। দলের জয়ে অবদান রাখার চেয়ে আনন্দ কোনও কিছুতেই নেই। সেই সন্তুষ্টি তুলনাহীন।’
এমনিতেও অধিনায়ক হিসেবে রোহিতের সাফল্য প্রশ্নাতীত। গত বছর টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছেন। এদিন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও উঠল তাঁর হাতে। একমাত্র মহেন্দ্র সিং ধোনিরই রয়েছে তাঁর চেয়ে বেশি সাফল্য। মাহির হাতে উঠেছিল ওডিআই বিশ্বকাপও। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর মোতেরায় যা উঠতেই পারত রোহিতের হাতে।
মুম্বইকর অবশ্য এর মধ্যেই অনন্য এক কীর্তির মালিক হয়েছেন। বিশ্বের আর কোনও অধিনায়ক আইসিসি’র মোট চারটি ইভেন্টের ফাইনালে খেলেননি। রোহিতই একমাত্র। গত কয়েক মাসে তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল ব্যাটসম্যান রোহিতের। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজে তাঁর ব্যর্থতা রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। বলা হচ্ছিল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালই হতে চলেছে তাঁর শেষ একদিনের ম্যাচ। কে জানত, সেই ফাইনালকেই তিনি বেছে নেবেন যাবতীয় জবাবের মঞ্চ হিসেবে! মাত্র ৪১ বলে যখন তিনি পঞ্চাশ পূর্ণ করে ব্যাট তুললেন, গ্যালারিতে তাক করা ক্যামেরায় ধরা পড়লেন স্ত্রী রীতিকা। কন্যাকে পাশে নিয়ে বসে হাততালি দিচ্ছেন তিনি। করতালিতে মুখর গোটা স্টেডিয়াম। আসলে চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের চিত্রনাট্য নিজেই লেখেন। অন্যদেরকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দেন না। আর তাই কংগ্রেসের মুখপাত্র শামা মহম্মদকেও মেতে উঠতে হয় তাঁর বন্দনায়। সাব্বাস হিটম্যান!