মুম্বই: জল্পনার অবসান। টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রোহিত শর্মা। আগেই টি-২০ ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন হিটম্যান। এবার ধ্রুপদী ফরম্যাট থেকেও সরিয়ে নিলেন নিজেকে। ফলে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে এখন একমাত্র ৫০ ওভারের ক্রিকেটেই দেখা যাবে তাঁকে। বুধবার সন্ধ্যায় ইনস্টাগ্রাম পোস্টে রোহিত লেখেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। সাদা পোশাকে দেশের হয়ে খেলা আমার কাছে দুর্দান্ত সম্মানের ছিল। বছরের পর বছর আপনারা যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ। ওডিআই ক্রিকেটে অবশ্য দেশের হয়ে খেলব।’ রোহিতের অবসরের সিদ্ধান্ত ছড়িয়ে পড়তেই ক্রিকেট মহলে সাড়া পড়ে যায়। প্রতিক্রিয়া দিতে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি ইডেনে আইপিএল ম্যাচ চলাকালীন বলেন, ‘সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।’
লাল বলের ক্রিকেটে রোহিতকে ক্রমশ ছন্দহীন দেখাচ্ছিল। গত বছর ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে চরম হতাশ করেন তিনি। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতেও রান পাননি। ব্র্যাডম্যানের দেশে আট টেস্টে তাঁর গড় ছিল ১০.৯৩। মাত্র একবারই পঞ্চাশের গণ্ডি টপকাতে পেরেছিলেন রোহিত। নেতা হিসেবেও সঙ্গী হচ্ছিল ব্যর্থতা। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ০-৩ হোয়াইটওয়াশ হয় ভারত। বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতেও ১-৩ হারে দল। রোহিত অবশ্য দলের স্বার্থে নিজেকে শেষ টেস্ট থেকে সরিয়ে নেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এখন রান পাচ্ছি না বলে যে পাঁচ মাস পরেও পাব না, এমন নয়। এতদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি ক্রিকেটে প্রতি সেকেন্ডে বদলায় জীবন। নিজের উপর বিশ্বাস রয়েছে আমার।’
অনেকে মনে করছেন, কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে বাধ্য হলেন রোহিত। মঙ্গলবারই গম্ভীর বলেছেন যে, দলে থাকার জন্য পারফরম্যান্সই শেষ কথা। ভারতীয় ক্রিকেটে তারকা প্রথা শেষ করার কথাও দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন গম্ভীর। উল্লেখ্য, ৩৮ বছর বয়সি রোহিতের ৬৭ টেস্টে রয়েছে ৪৩০১ রান। শতরানের সংখ্যা ১২টি। উল্লেখ্য, আইপিএলের পরই ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলবে ভারত, যা শুরু হবে ২০ জুন। রোহিতের অবসরের পরিপ্রেক্ষিতে অজিত আগরকরের নেতৃত্বে নির্বাচকমণ্ডলীর সামনে নেতা বাছাইয়ের চ্যালেঞ্জ। সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে চর্চায় আছেন যশপ্রীত বুমরাহ, শুভমান গিল, লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পন্থ। তবে প্রথম দু’জনই দৌড়ে এগিয়ে।