সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: বড় ডাকাতি করার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল ডাকাতদল। কিন্তু বাড়ির সদর দরজা খুলতেই দেখে, মা দুর্গা লাল শাড়ি পরে তাঁর বিপুল তেজরাশি নিয়ে দাঁড়িয়ে। দেখে তাঁদের থরহরিকম্প অবস্থা। ভয়ে বাধ্য হয়ে ফিরে যায় ডাকাতদল। এমনই জনশ্রুতি রয়েছে জয়নগরের সরবেড়িয়ার সাহা বাড়িতে। মা নিজেই স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন বাড়ির পূর্বপুরুষ সনাতন সাহাকে। সেই সময় সনাতনবাবুর আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। মা তাঁকে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, শুধুমাত্র ছানা, আতপ চাল, আখের গুড়ের নৈবেদ্য দিয়ে পুজো করে আমাকে বাড়িতে স্থাপন কর। তারপরেই সাহাবাড়িতে শুরু হয় দূর্গাপুজো। সেই পুজো এখন ১২৩ বছরের। বাড়ির প্রবীণ সদস্য ৭৫ বছরের অমল সাহা জানান, এক বছর অন্তর নবমীর দিন মায়ের ভর হয়। সেই সময় কোনো ভক্ত এসে যদি কোনো রোগ উপশমের কথা বলেন, তাহলে তাঁকে মায়ের ওষুধ হিসাবে শিকড় দেওয়া হয়।
সাহা পরিবারের পূর্বপুরুষ সনাতন সাহা ব্যবসার সূত্রে কটক থেকে এসে জয়নগরে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে এখানে তামাক চাষ ও ব্যবসা ছিল তাঁদের জীবিকার ভিত্তি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা সমৃদ্ধ হয়। বাড়ে পরিবারের প্রতিপত্তি। ব্যবসায়ী পরিবার ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয় জমিদার পরিবার হিসাবে। বাড়ির নাম সনাতন দেবালয়। দুর্গাদালানে চলছে প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি। রথের দিন কাঠামো পুজো হয়েছে।
বাড়ির সদস্য অমল সাহা বলেন, মায়ের পুজোতে কোনো সন্দেশ নয়। ছানা, আখের গুড়, আতপ চাল নৈবেদ্য দেওয়া হয় মাকে। একচালা আমাদের দেবী মূর্তি। বাড়ির প্রবীণা সদস্যা শিবানী দেবী বলেন, আজও বলি প্রথা চালু আছে পুজোয়। তবে মায়ের ভোগ হয় নিরামিষ। সন্ধ্যায় লুচি, ফুলকপির তরকারি, আলুর দম, এক বাটি দুধ দেওয়া হয়। এছাড়া সপ্তমী ও নবমীর সন্ধ্যায় খিচুড়ি ভোগ, ও অষ্টমীর সন্ধ্যায় লুচি ভোগ বাইরের মানুষজনকে প্রসাদ হিসাবে দেওয়া হয়।
পরিবারের বধূ মৌমিতা সাহা বলেন, আশপাশের বাসিন্দা সহ দূর দূরান্তের মানুষজন আসেন আমাদের প্রতিমা দেখতে। এত সুন্দর আমাদের মায়ের প্রতিমা যে চোখ দাঁড়িয়ে যায় দেখে। সোনার গয়নায় মা সেজে ওঠেন নতুনভাবে। কনিষ্ঠ সদস্য সোহম দাস বলেন, পরিবারের সদস্যরা দেশ বিদেশে ছড়িয়ে আছেন। সবাই পুজোর টানে চলে আসেন বাড়িতে। নিজস্ব চিত্র