


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ভোটযুদ্ধের ময়দানে উত্তাপের পারদ ঊর্ধ্বমুখী। তাই ভোটের এক সপ্তাহ আগে বুধবার নববর্ষের দিন প্রচারে চকম দিতে প্রস্তুত সব দলই। কেউ পকেট ক্যালেন্ডার, আবার কেউ ওয়াল ক্যালেন্ডার নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাবেন। আবার কেউ কেউ মন্দিরে পুজো দিয়ে বাজানা বাজিয়ে পদযাত্রা করেন। সবমিলিয়ে আজ, নববর্ষের দিন কাটবে অন্য মুডে।
বাংলায় বারো মাসে তেরো পার্বণ। সেগুলির মধ্যে বাংলা নববর্ষ ও হালখাতা অন্যতম। পয়লা বৈশাখ দিনটি ধুমধাম করে পালন করে উৎসব প্রিয় বাঙালি। মুদিখানা, স্বর্ণ, বস্ত্র সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে গণেশপুজো করা হয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থাও নাচ, গান ও নাটকের মধ্যদিয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত এবং পুরনো বছরকে বিদায় জানানো হয়।
এবার নববর্ষে শামিল হচ্ছে গণতন্ত্রের উৎসব, ভোট। ২৩ এপ্রিল ভোট। এর সাতদিন আগে আজ, নববর্ষ। কাজেই গণতন্ত্রের উৎসব বাঙালির এই উৎসবে অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করেছে। এই উৎসবের দিনে ভোট প্রচার সারতে তৎপর সমস্ত রাজনৈতিক দল। এরমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস অন্যতম। তারা বাংলার মাটি থেকে পদ্মফুলকে সাফ করার শপথ গ্রহণ করবে, আজ। দলীয় সূত্রের খবর, আজ, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আসছেন। তিনিও তিন প্রার্থীকে নিয়ে শহরে মেগা রোডশো করবেন বলে খবর। তাতে বাজনা, ঢাক, ধামসা, মাদল, আদিবাসী, রাজবংশী, নেপালি নৃত্যের দল থাকবে।
এরবাইরে শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রার্থী শংকর মালাকার পুজো দিয়ে ময়দানে নামবেন। বাজনা বাজিয়ে পদযাত্রা ও নববর্ষের ক্যালেন্ডার বিলি করবেন। তাতে পুরসভা, মহকুমা পরিষদ ও রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান থাকবে। ফাঁসিদেওয়ার প্রার্থী রীনা টোপ্পো এক্কা বাজনার দল নিয়ে পদযাত্রা করবেন। শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী বলেন, বিজেপি বাংলা বিদ্বেষী। ওরা পদে পদে বাংলাকে অপমান করছে। ওদেরকে বাংলা থেকে তাড়ানার শপথ গ্রহণ করেছি। এজন্য নববর্ষে পুজোও দেব।
এদিকে, নববর্ষে ময়দানে থাকতে পদ্ম শিবিরও একগুচ্ছ পরিকল্পনা করেছে। দলীয় সূত্রের খবর, বিজেপির শিলিগুড়ির প্রার্থী শংকর ঘোষ ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির আনন্দময় বর্মন বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেবেন। পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগ করবেন। ফাঁসিদেওয়ার প্রার্থী দুর্গা মুর্মুরও একই রকম পরিকল্পনা। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রার্থী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে ভোটারদের মধ্যে পকেট ক্যালেন্ডার বিলি করতে পারেন। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি প্রার্থী বলেন, বিজেপি নয়, তৃণমূলই বাংলার সংস্কৃতি ধ্বংস করেছে। দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করেছে। এসবের বিরুদ্ধে এবার ভোট হবে। তাই নববর্ষের দিন বিশেষ ভোট প্রচার করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে সিপিএম ও কংগ্রেসও পিছিয়ে নেই। শিলিগুড়ির সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী ও কংগ্রেস প্রার্থী অলোক ধারা বাজনা বাজিয়ে পদযাত্রা করার পাশাপাশি, বিভিন্ন চায়ের ঠেক ও মহল্লায় গিয়ে ভোট প্রচার করবেন। মন্দিরেও যেতে পারেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির এমন তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, এবারের নববর্ষ অন্যরকম। ভোটের উত্তাপের মধ্যদিয়েই পালিত হবে বাঙালির এই দিনটি।