নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বৃষ্টি হলেই রাস্তা আর রাস্তা থাকে না। বড়ো বড়ো গর্ত জলে ঢেকে যায়। কোথায় রাস্তা শেষ আর কোথায় গর্ত শুরু, তা বোঝার উপায় থাকে না। সেই ঝুঁকি নিয়েই স্কুলে যেতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। কাজে বেরনো মানুষ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, সকলেরই তাই নিত্যসঙ্গী দুর্ভোগ। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ও বাড়ছে বিপদ। এই ছবি হাবড়ার মছলন্দপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জয়গাছি থেকে ফুলতলা, বাইগাছি হয়ে উপনে পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার অধিকাংশ অংশের পিচ উঠে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোটো-বড়ো গর্ত। বর্ষার জল জমে সেই গর্তগুলি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুই চাকার যান থেকে টোটো, অটো বা ছোটো গাড়ি– সব ধরনের যানবাহনই সমস্যার মুখে পড়ছে। রোজই কেউ না কেউ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন।
এই রাস্তা শুধু কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম নয়। জয়গাছি, ফুলতলা, বাইগাছি, উপনে সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা এই পথ। রাস্তার ধারে রয়েছে একাধিক প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিদিন শয়ে শয়ে পড়ুয়া এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যায়। রয়েছে বাইগাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ফলে অসুস্থ রোগীদেরও বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়েই হাসপাতালে পৌঁছতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এছাড়াও মছলন্দপুর ও রাজবল্লভপুরের দিক থেকে হাবড়ায় যাওয়ার বিকল্প বা বাইপাস রাস্তা হিসাবেও বহু মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। ফলে রোজ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে এই রাস্তায়। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব কাঞ্জিলাল বলেন, বছরের পর বছর ধরে একই অবস্থা। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গর্তে জল জমে থাকায় দুর্ঘটনার ভয় সব সময়েই থাকে। বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নিজস্ব চিত্র