Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

রাস্তা-সেতু উধাও, চ্যালেঞ্জ নিয়েই উত্তরাখণ্ডে উদ্ধারকাজ

ভাগীরথী নদীর তীর বরাবর গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়ক। উত্তরকাশী থেকে গঙ্গোত্রী যাওয়ার এই রাস্তাতেই পড়ে ধারালি। সেখানে ক্ষীরগঙ্গার কোল বেয়ে মঙ্গলবার নেমে এসেছিল দানব-জলধারা।

রাস্তা-সেতু উধাও, চ্যালেঞ্জ নিয়েই উত্তরাখণ্ডে উদ্ধারকাজ
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

উত্তরকাশী (পিটিআই):  ভাগীরথী নদীর তীর বরাবর গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়ক। উত্তরকাশী থেকে গঙ্গোত্রী যাওয়ার এই রাস্তাতেই পড়ে ধারালি। সেখানে ক্ষীরগঙ্গার কোল বেয়ে মঙ্গলবার নেমে এসেছিল দানব-জলধারা। চোখের পলকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে সবকিছু। ধারালি গ্রামের অর্ধেকটাই এখন বোল্ডার-কাদামাটি-ধ্বংসস্তূপের নীচে। বিপর্যয়ের পর ধারালি ও হরসিলের পথে পাড়ি দেয় ২০০ জনের যৌথ উদ্ধারকারী দল। কিন্তু ভাটওয়ারির পর আর এগতে পারেনি ওই টিম। কারণ মাঝপথে উধাও গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়কের এক-দেড়শো মিটার রাস্তা। এখান থেকে অনতিদূরে লিমাচ্চা নদীর উপর একটি সেতুও হড়পা বানে টিকে থাকতে পারেনি। উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুন থেকে ধারালির দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার। কিন্তু ওই পথে জায়গায় জায়গায় ধস। তাই এনডিআরএফের দু’টি দলকে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাধ সেধেছে খারাপ আবহাওয়া। ফলে বিচ্ছিন্ন ধারালিতে খাবার, পানীয় জল সহ অন্যান্য আবশ্যিক সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। হরসিল ক্যাম্প থেকে পৌঁছনো জওয়ানদের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে চলছে উদ্ধারের কাজ। দফায় দফায় চলছে বৃষ্টি। পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে কাদা আর বোল্ডার পেরিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উর্দিধারীরা। 

Advertisement

সরকারি সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত মোট ১৫০ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। বুধবার আরও একটি দেহ উদ্ধার হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫। হড়পা বানে বহু ঘরবাড়ি ও গাড়ি ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজের সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছেন হরসিল সেনা ক্যাম্পের ১১ জওয়ান। তালিকায় কেরল থেকে আসা ২৮ পর্যটকের একটি দলও। নিঁখোজ এক পর্যটকের আত্মীয় বলেছেন, উত্তরকাশী থেকে গঙ্গোত্রী রওনা দিয়েছিল ওরা। সেই রুটেই ধস নামে। তারপর থেকে আর যোগাযোগ নেই।’ সমান উদ্বিগ্ন ধারালির বাসিন্দারাও। এক গ্রামবাসী বলেন, ‘আমার ভাই, ভ্রাতৃবধূ ও তাদের ছেলের কোনও খোঁজ নেই।’ বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, আবহাওয়ার উন্নতি হলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তল্লাশির কাজ শুরু হবে।’ 
হড়পা বানের নেপথ্যে প্রাথমিকভাবে মেঘভাঙা বৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ আবহাওয়া দপ্তর ও স্যাটেলাইট চিত্র থেকে এখন ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। মৌসম ভবনের (আইএমডি) তথ্য বলছে, উত্তরাখণ্ডের ওই অঞ্চলে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। জেলা সদরে সর্বোচ্চ বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র ২৭ মিলিমিটার। ফলে মেঘভাঙা বৃষ্টির তত্ত্ব খাটছে না। তাহলে কারণ? বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বেশি উচ্চতায় কোনও হিমবাহ হ্রদে ভাঙন ওই হড়পা বানের কারণ হতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ