সংবাদদাতা, বারুইপুর: গত কয়েকমাস ধরে রাস্তা বেহাল। জলমগ্ন। বাধ্য হয়ে পড়ুয়ারা, স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করছেন রেললাইন ধরে। প্রবল ঝুঁকি মাথায় নিয়ে প্রতিদিন বাধ্য হয়ে এইভাবেই দিন কাটছে মানুষের। যে কোনোদিন বড়ো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, এই আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে। এরই মধ্যে ট্রেনের ধাক্কায় স্থানীয় এক তরুণী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ভয়াবহ ছবি মল্লিকপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকার।
জায়গাটি বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। সমস্যার কথা প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে ক্ষোভপ্রকাশ করেন এখানকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার পঞ্চায়েতকে জানানো সত্ত্বেও কাজ হয়নি। অন্যদিকে পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কমল মিত্র বলেছেন, ‘রাস্তা মেরামতের জন্য আমরা জেলা পরিষদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। জেলা পরিষদ ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছিল। কিন্তু কাজ করার জন্য রেলের এনওসি দরকার বলে ওরা জানায়। আমরা তারপর রেলের ডিআরএম’কে এনওসি দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম।’ মল্লিকপুর স্টেশনের দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ দিকে বেলিয়াডাঙা ট্রান্সফরমার পর্যন্ত লম্বা রাস্তাটির জল জমে শোচনীয় অবস্থা। দু’পাশে জঙ্গল তৈরি হয়েছে। ঘুরে বেড়াচ্ছে পোকামাকড়, সাপ। সে রাস্তা দিয়ে হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেলিয়াডাঙা, নতুনপাড়া, সুলতানপুর, পুরন্দরপুর এলাকার লোকজনকে যাতায়াত করতে হয়। মল্লিকপুর গার্লস হাই স্কুল, বয়েজ স্কুল, প্রাইমারি স্কুল সহ অন্যান্য কিছু স্কুলের পড়ুয়াকে এই পথ ধরেই যাতায়াত করতে হয়। তাঁরা এখন বাধ্য হয়ে রেললাইন ধরে চলাচল করছেন। জল এখন বসত বাড়িতে পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। চরম যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। সন্ধ্যার পর কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়ছেন সকলে। এখানকার বাসিন্দারা বলেন, রেললাইন ধরে চলা বিপজ্জনক। কিন্তু বাধ্য হয়ে ট্রেন ধরতে এ পথ দিয়ে স্টেশনে যেতে হয়। বাজারে যেতে হলেও রেললাইন ধরে যেতে হয়। জমা জল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পঞ্চায়েতকে অনেকবার চিঠি দেওয়া হলেও সমস্যা সমাধানে কোনো কাজই হয়নি। জয়া পাল নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘রেললাইন ধরে বাড়ি আসতে গিয়ে কিছুদিন আগেই ট্রেনের ধাক্কায় এক তরুণী প্রাণ হারিয়েছেন। খুব ভয় নিয়ে লাইন দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়া আর কোনো পথ নেই। বাড়ির ভিতরে পর্যন্ত জল ঢুকে আছে। এরকমভাবে কোনো মানুষ থাকতে পারে?।’ অন্য এক বাসিন্দা বলেন, ‘বেনিয়াডাঙা বাবলুর দোকান থেকে নতুনপাড়া মন্দির পর্যন্ত পথশ্রী প্রকল্পের অধীন এখানে ঢালাই রাস্তা তৈরি হবে বলে পোস্টার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ না করে টাকা গায়েব করে দিয়েছে পঞ্চায়েত।’ নিজস্ব চিত্র