নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: শ্রীচৈতন্যের পায়ের ধুলো পড়েছে। সাধক রামপ্রসাদের জন্মভিটেও এখানে। তীর্থক্ষেত্র সেই হালিশহরকে নিয়ে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করল হালিশহর পুরসভা। এ শহরের বিশিষ্ট জায়গাগুলিকে আরও সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। সৌন্দর্যায়নের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। শীঘ্রই প্রকল্প কার্যকর হবে।
Advertisement
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, সাধক কবি রামপ্রসাদ সেনের জন্ম হয়েছিল হালিশহরে। সে প্রায় ৩০০ বছর আগের ঘটনা। তাঁর সাধনার স্থল হালিশহরের ভিটেকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে পর্যটন দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুরসভা। রামপ্রসাদের ভিটে শুধু নয়, যে গঙ্গার ঘাটে তার আরাধ্য দেবীকে নিয়ে ডুব দিয়েছিলেন সেই গঙ্গার ঘাটটি সাজিয়ে তুলতে প্রজেক্ট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। দু’টি প্রস্তাবই পর্যটন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্দেশে ‘পর্যটনে হালিশহর’ নামে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি চৈতন্যদেবের পদার্পণধন্য চৈতন্যডোবা, রানি রাসমণির ভিটে, স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিনবিহারী গঙ্গোপাধ্যায়ের বাসস্থান প্রভৃতি ঐতিহাসিক স্থান হালিশহরে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গঙ্গার ধারের ক্রেগ পার্ককে। তৈরি করা হয়েছে দুর্গামূর্তি। বাগ মোড় থেকে হাজিনগর পর্যন্ত বর্ষশেষে সাজিয়ে তোলা হয়েছে তিন শতাধিক বছরেরও পুরনো হালিশহর। সব রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। হাজিনগরে তৈরি হয়েছে দেখার মত তোরণ। বারাকপুর মহকুমায় একমাত্র এই পুরসভা এ ধরনের তোরণ তৈরি করেছে। পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষ বলেন, হালিশহরে বহু মনীষী এসেছিলেন। অনেকে আবার এখানেই জন্মেছেন। তাই এই সব মনীষীদের নিয়ে আমরা একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের প্রকল্প কার্যকর হলে হালিশহরে কেউ এলে এক ঝলকে সব কিছু দেখে জানতে পারবেন। শুধু তাই নয় মানুষ যাতে রামপ্রসাদের ভিটেতে সুন্দরভাবে যাতায়াত করতে পারে তার সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠের মত রামপ্রসাদের ভিটেকে যাতে একটি পীঠস্থান হিসেবে তুলে ধরা যায় এবং সেইসঙ্গে একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রমোট করা যায় তার উদ্যোগ নিয়েছে পুরসভা। সুন্দর করে সেজে উঠেছে হালিশহর। আমরা চাই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠুক হালিশহর।



