Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেলের শীর্ষ অফিসারকে খুশি করার তাগিদে হিলটপের ‘শতাধিক’ গাছ কাটার অভিযোগ

রেলের শীর্ষ অফিসারকে খুশি করার তাগিদে হিলটপের ‘শতাধিক’ গাছ কাটার অভিযোগ
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রেলবোর্ডের অর্থ বিভাগের সদস্য রূপা শ্রীনিবাসন। গত মাসেই ভারতীয় রেলের অন্যতম শীর্ষ কর্ত্রীর সিএলডব্লু পরিদর্শন নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মহিলা আধিকারিকের মন পেতে চেষ্টার কসুর করেনি চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কর্তৃপক্ষ। রেল শহর চিত্তরঞ্জনেই রয়েছে হিলটপ ভিউ। টিলার চূড়া থেকে এক সময়ে দেখা যেত কারখানা থেকে শহরের প্রতি প্রান্ত। সেই থেকেই এমন নাম। ম্যাডামকে সেখান থেকে শহর দেখাতে ব্যবস্থাপনা করতে হাজির হন সিএলডব্লুর জেনারেল ম্যানেজার বিজয় কুমার। কিন্তু শহরের নান্দনিক সৌন্দর্য দর্শনে বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল হিলটপে থাকা বিশাল গাছগুলি। অভিযোগ, ম্যাডামের দৃষ্টির ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে হিলটপ থেকে বড় বড় গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়। সিএলডব্লু পরিদর্শনে এসে হিলটপে যাননি রূপা শ্রীনিবাসন, কিন্তু গাছ কাটার খবর পৌঁছেছে বনদপ্তরের কাছে। তারা রেল প্রশাসনকে নোটিস ধরিয়েছে গাছ কাটার জন্য। 
Advertisement
একদিকে বৃক্ষচ্ছেদন, অন্যদিকে চিত্তরঞ্জন থেকে মুখ ফেরাচ্ছে প্রাণিকূলও। একটা সময়ে পরিযায়ী পাখিদের সেকেন্ড হোম ছিল এই চিত্তরঞ্জন শহর। শহর জুড়ে সাতটি লেক (বড় জলাশয়) রয়েছে। সবুজে মোড়ে শহরে লেকগুলিতে অস্থায়ী ডেরা বাঁধত ভিন দেশের পক্ষীকূল। এবার বার্ড সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচ বছরে চিত্তরঞ্জনে পরিযায়ী পাখি কমেছে ৩০ শতাংশ। তাই নিয়েও চিন্তিত বনদপ্তর। প্রশ্ন উঠেছে, রেল প্রশাসনের উদাসীনতায় কি চিত্তরঞ্জন প্রকৃতির বদ্ধভূমিতে পরিণত হচ্ছে? 
ডিএফও অনুপম খান বলেন, গাছ ও বড় ডাল মিলে শতাধিক বৃক্ষচ্ছেদনের ঘটনা ঘটেছে। বিনা অনুমতিতে কীভাবে রেল এই কাজ করল, তা বোঝা যাচ্ছে না। আমরা তাদের নোটিস করেছি। এখনও লিখিত উত্তর পাইনি। চিত্তরঞ্জনে পরিযায়ী পাখির সংখ্যাও কমছে। 
সংরক্ষিত শহর চিত্তরঞ্জন ছবির মতো সাজানো শহর। বৃত্তাকার এই শহর সবুজে মোড়া। কোয়ার্টার থেকে ফাঁকা জায়গা— সর্বত্র মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে গাছ। শিল্পাঞ্চলের ফুসফুসের ভূমিকা পালন করে এই শহর। শিল্প শহর হলেও দূষণের লেশ মাত্র নেই শহরে। এত বছর ধরে এই পরিবেশ রক্ষার কৃতিত্ব অবশ্যই দাবি করতে পারে রেল প্রশাসন। শহরের কোথাও গাছ কাটা হলেই এতদিন ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। সেই রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই এবার গাছ কাটার অভিযোগ উঠল। তাও একটি দু’টি নয়, বহু গাছ কাটার অভিযোগে অভিযুক্ত সিএলডব্লু কর্তৃপক্ষ। তাই নিয়ে রেল শহরে এখন জোর চর্চা। কোয়ার্টারে গাছ কাটা যদি রেল কর্মীদের অপরাধ হয়, তাহলে বনদপ্তরকে না জানিয়ে রেল প্রশাসন কী করে এই কাণ্ড ঘটাল? বনদপ্তর নোটিস করার পর থেকেই জোরালো হয়েছে প্রশ্নটি। চিত্তরঞ্জন লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত বলেন, কোনও কোয়ার্টারে ভুল করে কেউ গাছ কাটলে রেল ব্যবস্থা নেয়। এক্ষেত্রে একজন আধিকারিককে শহর দেখানোর জন্য এত গাছ কেটে নেওয়া ঠিক হয়নি। আইএনটিইউসির নেতা নেপাল চক্রবর্তী বলেন, অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছে রেল প্রশাসন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অন্যদিকে পরিযায়ী পাখি নিয়ে সার্ভে টিমের সদস্যদের দাবি, কয়েক বছর চিত্তরঞ্জনের লেকগুলি কচুরিপানায় ঢেকেছিল। গত বছর তা পরিস্কার করা হলেও পাখিরা সেদিকে আর ফিরছে না। 
সিএলডব্লুর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক উত্তম মাইতি বলেন, বনদপ্তরের চিঠি এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ