Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই গলসির গ্রামে ধ্বংসের মুখে সজনীকান্ত দাসের জন্মভিটে

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই গলসির গ্রামে ধ্বংসের মুখে সজনীকান্ত দাসের জন্মভিটে
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় ধ্বংসের মুখে সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাসের জন্মভিটে। গলসি-১ ব্লকের লোয়াপুর কৃষ্ণরামপুর পঞ্চায়েতের বেতালবন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ভগ্নবাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। প্রশাসনকে জানানো হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গলসি-১ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে কবির পরিবার বা এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আবেদন আসেনি। 
Advertisement
সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস ১৯০০ সালে ২৫ আগস্ট মামার বাড়ি বেতালবনে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও সাহিত্যিকের জন্ম সাল নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকে বলেন ১৯০০ নয় ১৮৯৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্মদিন। সজনীকান্ত দাসের বাড়ি ছিল বীরভূমের রায়পুর গ্রামে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। বাবা হরেন্দ্রলাল দাস কালেক্টর ছিলেন। ফলে কর্মসূত্রে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয়েছে। সজনীকান্ত দাসও তাই উত্তরবঙ্গ, পাবনা কখনও দিনাজপুরে পড়াশোনা করেছেন। ১৯১৪ সালে দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয়ে তিনি এন্ট্রান্স পাস করেন। ১৯২০ সালে বাঁকুড়া মিশনারি কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। পরে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনার জন্য তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। কথিত আছে, কলেজ সংলগ্ন হস্টেলগুলিতে আমিষ খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এ নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করলে অন্য ছাত্ররা তাঁর সঙ্গে যোগ দেন এবং বিষয়টি আন্দোলনের রূপ নেয়। বিভিন্ন কারণে তিনি বেনারস ছেড়ে ফিরে আসেন কলকাতায়। পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। একই সঙ্গে শুরু করেন সাহিত্যচর্চা। যুক্ত হন ‘শনিবারের চিঠি’র সঙ্গে। পরবর্তীকালে এই পত্রিকার সম্পাদকও হয়েছিলেন তিনি। 
বাংলা শিক্ষক দিলীপ কোনার বলেন, এই পত্রিকার বিশেষত্ব ছিল তৎকালীন সাহিত্য কর্মকাণ্ডকে হাস্যরস পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তীব্র সমালোচনা করা। রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম কেউই রেহাই পাননি। তবে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অত্যন্ত স্নেহধন্য ছিলেন। বহুবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছেন। তাঁর আত্মজীবনী ‘আত্মস্মৃতি’ গ্রন্থে বেতালবনের নাম উল্লেখ আছে। শনিবারের চিঠি ছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেছেন। কবিতা, গল্প, সমালোচনা সব মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ষাটেরও বেশি। ১৯৬২ সালে তিনি মারা যান।
গবেষক সৌরভ কেশ বলেন, ‘শনিবারের চিঠি’ শতবর্ষে পদার্পন করেছে। সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ ভবনে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগেই বুদবুদের তিলডাঙা মোড় থেকে কসবা সড়কের নাম দেওয়া হয়েছে সজনীকান্ত সরণি। কিন্তু মনীষীর জন্মস্থান রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে। অবিলম্বে বাড়িটি সংরক্ষণ করা উচিত এবং ওঁর লেখা নিয়ে বেতালবনে সংরক্ষণশালা হলে ভালো হয়। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, বাড়িটি সংস্কার হলে ভালো হয়। বর্তমানে ঘুঁটে দেওয়ার কাজ হচ্ছে, গরু চরছে। তাঁদের আক্ষেপ, অনেকেই সজনীকান্ত দাসের পরিচয় জানেন না। বাড়িটি সংস্কার হলে এরকম মনীষীর সঙ্গে এলাকার সকলে পরিচিত হবেন। গলসি-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওখানে জায়গা পাওয়া গেলে আমরা পর্যটনের দিকটি দেখব।
সম্পর্কিত সংবাদ