নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আবাস প্রকল্পের টাকা রাজ্য দিলেও উপভোক্তাদের হক পাওনা দিচ্ছে না কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ আবাস প্রকল্পে উপভোক্তারা এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার পাশাপাশি একশো দিনের কাজে ৯০ দিনের কর্মদিবসের টাকা পেতেন বাড়ি নির্মাণের জন্য। ২৫০ টাকা হিসেবে তার পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে একজন উপভোক্তা পেতেন এক লক্ষ ৪২ হাজার টাকা। তাতে মোটামুটিভাবে পাকাবাড়ি হয়ে যেত। এখন সেই টাকাটা কেন্দ্র আটকে রেখেছে বলে আম উপভোক্তাদের অভিযোগ। বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন গরিব মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির উপর ক্ষোভ বাড়ছে তাঁদের। সেই কারণেই সদস্য সংগ্রহ অভিযানে গেরুয়া শিবিরকে ধাক্কা খেতে হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনীতির কারবারিরা।
Advertisement
তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পরিমাণ টাকা দিচ্ছে, তা দিয়ে যাতে গরিব মানুষ পাকাবাড়ি সম্পূর্ণভাবে নির্মাণ করতে পারেন, সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সঠিক মূল্যে ইট, বালি, সিমেন্ট, রড কেনার বিষয়ে নজরদারি চালানোর নির্দেশিকা জারি করেছে পঞ্চায়েত দপ্তর। জেলায় জেলায় গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের খুঁটিনাটি সমস্যার খোঁজ নিচ্ছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। বুধবার মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় বৈঠক করেছেন। সেখানেও তিনি প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও ভাবেই উপভোক্তারা যেন হয়রানির শিকার না হন। অহেতুক ইমারতি সামগ্রীর দাম যেন বাড়িয়ে দেওয়া না হয়।
প্রদীপবাবু বলেন, কেন্দ্র বাংলার মানুষের প্রতি তীব্র বঞ্চনা করছে। আমরা জেলায় জেলায় বৈঠক করে বাংলার বাড়ি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করছি। পঞ্চায়েত দপ্তরের অন্যান্য প্রকল্পগুলি নিয়েও চর্চা হচ্ছে। যাতে ইমারতি দ্রব্যের দাম যেন বাড়িয়ে না দেওয়া হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।
বারাবনি ব্লকের পাঁচগাছিয়া পঞ্চায়েতে বাড়ি ময়না কর্মকারের। নিম ধাওড়া মাজি পাড়ায় ঝুপড়ি ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকেন তিনি। স্বামী মারা গিয়েছেন। লোকের বাড়িতে কাজ করে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে পড়াশোনা শেখাচ্ছেন। বাংলা বাড়ি প্রকল্পে প্রথম দফায় যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে তাঁদের একজন ময়নাদেবী। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের যা দাম বেড়েছে, এক লক্ষ ২০ হাজার টাকায় কি পাকা বাড়ি হবে! একশো দিনের প্রকল্প চালু থাকলে আরও ২২ হাজার ৫০০ টাকা পেতাম বলে শুনছি। কেন্দ্র কেন আমাদের টাকা দিচ্ছে না। আমরা কি চুরি করেছি।
ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মতিলাল হরিজন রামধনী মার্কেটে চপ বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আমরা যাঁরা আবাস প্রকল্পে বাড়ি পাচ্ছি, কেন্দ্র অন্তত দিনের প্রকল্পে ৯০ দিনের শ্রম দিবসের টাকাটা দিক। তাঁহলে বাড়ি তৈরি করতে আমাদের খুবই উপকার হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মনোরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা যতটা সম্ভব উপভোক্তাদের পাশে থাকছি। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতি মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, তৃণমূল সরকার টাকার হিসাব দেয়নি বলে কেন্দ্র টাকা বন্ধ করেছে। সাধারণ মানুষকে আর ভুল বোঝানো যাবে না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বালি ও ইটের দামের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এবার জেলায় ৭ হাজার ৯৪৯টি বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়ে বাড়ি পেয়েছেন ২০২ জন। যার মধ্যে বেশিরভাগ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অণ্ডাল ব্লকে ১ হাজার ২৮৬টি , বারাবনিতে ৭২৬, দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকে ৬০৯, জামুড়িয়ায় ৭০৮টি, কাঁকসার এক হাজার ৪৫৮ পাণ্ডবেশ্বরে ১ হাজার ৩৯৭, সালানপুরের ১ হাজার ৫৯৯, রানিগঞ্জের ১৬৬ জনের বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রদীপবাবু বলেন, কেন্দ্র বাংলার মানুষের প্রতি তীব্র বঞ্চনা করছে। আমরা জেলায় জেলায় বৈঠক করে বাংলার বাড়ি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করছি। পঞ্চায়েত দপ্তরের অন্যান্য প্রকল্পগুলি নিয়েও চর্চা হচ্ছে। যাতে ইমারতি দ্রব্যের দাম যেন বাড়িয়ে না দেওয়া হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।
বারাবনি ব্লকের পাঁচগাছিয়া পঞ্চায়েতে বাড়ি ময়না কর্মকারের। নিম ধাওড়া মাজি পাড়ায় ঝুপড়ি ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকেন তিনি। স্বামী মারা গিয়েছেন। লোকের বাড়িতে কাজ করে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে পড়াশোনা শেখাচ্ছেন। বাংলা বাড়ি প্রকল্পে প্রথম দফায় যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে তাঁদের একজন ময়নাদেবী। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের যা দাম বেড়েছে, এক লক্ষ ২০ হাজার টাকায় কি পাকা বাড়ি হবে! একশো দিনের প্রকল্প চালু থাকলে আরও ২২ হাজার ৫০০ টাকা পেতাম বলে শুনছি। কেন্দ্র কেন আমাদের টাকা দিচ্ছে না। আমরা কি চুরি করেছি।
ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মতিলাল হরিজন রামধনী মার্কেটে চপ বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আমরা যাঁরা আবাস প্রকল্পে বাড়ি পাচ্ছি, কেন্দ্র অন্তত দিনের প্রকল্পে ৯০ দিনের শ্রম দিবসের টাকাটা দিক। তাঁহলে বাড়ি তৈরি করতে আমাদের খুবই উপকার হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মনোরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা যতটা সম্ভব উপভোক্তাদের পাশে থাকছি। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতি মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, তৃণমূল সরকার টাকার হিসাব দেয়নি বলে কেন্দ্র টাকা বন্ধ করেছে। সাধারণ মানুষকে আর ভুল বোঝানো যাবে না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বালি ও ইটের দামের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এবার জেলায় ৭ হাজার ৯৪৯টি বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়ে বাড়ি পেয়েছেন ২০২ জন। যার মধ্যে বেশিরভাগ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অণ্ডাল ব্লকে ১ হাজার ২৮৬টি , বারাবনিতে ৭২৬, দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকে ৬০৯, জামুড়িয়ায় ৭০৮টি, কাঁকসার এক হাজার ৪৫৮ পাণ্ডবেশ্বরে ১ হাজার ৩৯৭, সালানপুরের ১ হাজার ৫৯৯, রানিগঞ্জের ১৬৬ জনের বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।



