সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: রাজ্য সরকার জমি কিনেহস্তান্তর করলেও কাঁটাতার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএসএফ ঢিলেমি করছে বলে অভিযোগ।আর তাতেই অনুপ্রবেশ বাড়ছে বলে উদ্বিগ্ন সীমান্তবাসী। নদীয়ায় আট বছর আগে জমি কেনা ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু আজও কাঁটাতার তৈরিতে গড়িমসি চলছে বলে অভিযোগ। কৃষ্ণনগর উত্তর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানু রহমান বলেন, ‘রাজ্য জমি ক্রয় করে বিএসএফকে হস্তান্তর করছে।কিন্ত বিএসএফ কিছু জায়গায় অযথা জমিজট তৈরি করছে। তাই কাঁটাতার দেওয়ার কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। অনুপ্রবেশ সহ সীমান্তের একাধিক সমস্যার সমাধানে দ্রুত কাঁটাতার দেওয়া হোক।’
Advertisement
নদীয়ায়সবমিলিয়ে অরক্ষিত এলাকা রয়েছে ২৩.৭ কিমি। নদীয়ায় হোগলবেড়িয়া, মুরুটিয়া সহ তেহট্ট মহকুমাতে প্রায় সাড়ে আট কিমি, ভীমপুর থানার রাঙিয়াপোতা, মহাখোলা নিয়ে প্রায় ছ’সাড়ে কিমি, কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকায় দু’কিমি এবংহাঁসখালির ৩.৭ কিমি এলাকাজুড়ে কাঁটাতার নেই। ধানতলা থানা এলাকায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কিমি ফেন্সিং নেই। এর বেশির ভাগটাই নদী। কাঁটাতারহীন এলাকার মধ্যে নদী রয়েছে সাড়ে তেরো কিমি ও স্থলভাগ১০.২ কিমি।এই এলাকাগুলিতে জমিজট থাকায় আলোচনার মাধ্যমে জমি কেনার কাজ শুরু হয়। সেই আলোচনায় কেন্দ্র ও রাজ্য দু’পক্ষ সহমতের ভিত্তিতে কাজ শুরু করে। পরে, বিএসএফ টাকা বরাদ্দ করলে জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই জমি হস্তান্তরও করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতি। বিএসএফের কড়া নজরদারির মধ্যেও অরক্ষিত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ হচ্ছে। রানাঘাট পিডি এলাকায় কয়েক মাসে আড়াইশোরও বেশি অনুপ্রবেশ হয়েছে। কৃষ্ণনগর পিডি এলাকা দিয়েও বাংলাদেশিরা ঢুকছে বলে অভিযোগ। সবমিলিয়ে উৎকণ্ঠা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই কাঁটাতারহীন সমস্ত এলাকায় চাষবাস থেকে বিভিন্ন পেশায় মানুষরা জানাচ্ছেন, দ্রুততার সঙ্গে কাঁটাতার দেওয়া হোক। ল্যান্ড পারচেজ কমিটি সূত্রে জানাগিয়েছে, নদীয়ার চাপড়া ব্লকের মহাখোলা ও উত্তর রাঙিয়াপোতা মৌজায় কাঁটাতারের জন্য জমি প্রয়োজন হয় ৩১,৮৬১ একর। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪ কোটি ১৭ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত জমি কেনা হয়েছে ২৩.৭৯ একর। এই জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে। করিমপুরের বারুইপাড়া, দহখোলা, গান্ধীনা মৌজায় কাঁটাতারের জন্য জমি প্রয়োজন হয়েছে ৫.২৪ একর। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ কোটি ৭৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। জমি কেনা হয়েছে ৪.৯৩ একর। বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে ৪.৮ একর। রানাঘাটের বোনবেরিয়া, শ্রীরামপুর, কলুপুর মৌজায় কাঁটাতারের জন্য জমি প্রয়োজন হয় ৩৬.৩৭ একর। এর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ১৬ কোটি ৫৫ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা। জমি কেনা হয়েছে ৯.৪ একর। বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে প্রায় ৪.২৮ একর। কৃষ্ণগঞ্জের বিজয়পুর ও গেদে মৌজায় কাঁটাতারের জন্য জমি প্রয়োজন ২৩.০৪ একর। এর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা হয়েছে। এখানে জমি কেনা হয়েছে ১৮.২২ একর। এর মধ্যে বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে ১৬.৯৫ একর। হাঁসখালি ব্লকে জমি ক্রয়ের জন্য ২০০ জন জমি মালিকের কাছে নোটিসও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিএসএফের ডিআইজি সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একটু সময় লাগছে। আশাকরছি,খুব শীঘ্রই পুরো কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে, অনুপ্রবেশ নিয়ে নদীয়ায় কোন রকম সমস্যা নেই।’



