Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজস্ব আদায়ে মন্দা, পর্যালোচনা বৈঠকে ‘ভোকাল টনিক’ মেয়রের

রাজস্ব আদায়ে মন্দা, পর্যালোচনা বৈঠকে ‘ভোকাল টনিক’ মেয়রের
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজস্ব আদায় না হলে পুরসভা চলবে কী করে? বিভিন্ন খাত থেকে আয় বাড়াতে হবে। যা করতে হবে তাড়াতাড়ি করুন। ‘ডু ইট নাও’। বুধবার, কলকাতা পুরসভার রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে এই ‘ভোকাল টনিক’ দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। 
Advertisement
চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত পুরসভার রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ গত বছরের এই সময়ের তুলনায় কম। পাশাপাশি দেনার ‘বোঝা’ দিন দিন বাড়ছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুরসভার আয় গতবারের তুলনায় ৭৮ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা কম হয়েছে। অন্যদিকে, দেনার পরিমাণ ছুঁয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছিলেন মেয়র। সম্পত্তি কর মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায়, বিল্ডিং, পার্কিং, লাইসেন্স, বাজার, বিনোদন, বিজ্ঞাপন, জঞ্জাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্তারা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দেখা গিয়েছে, সম্পত্তি কর বিভাগের আয় চলতি অর্থবর্ষে গতবারের তুলনায় খানিকটা বেশি হলেও সার্বিকভাবে কর আদায় ধাক্কা খেয়েছে অনেকটা। কোন বোরোতে কত রাজস্ব আদায় হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কাজ করতে গিয়ে কর্মী-আধিকারিকদের কী সমস্যা হচ্ছে, তাও জানতে চান ফিরহাদ হাকিম। আয় কমার কারণ হিসেবে আধিকারিকদের একাংশ বলে, বন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে বিভিন্ন কর খাতে ৪০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা চলছে। তা চূড়ান্ত হলে একলাফে আয় অনেকটা বাড়বে। অন্যদিকে, কলোনি এলাকায় বিশেষ করে বেআইনি নির্মাণগুলিতে মিউটেশন নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। আধিকারিকরা বলেন, কলোনি এলাকায় পুরনো বাড়ি বা ফ্ল্যাটগুলির কোনও নকশা নেই। অথচ বিপুল টাকায় সেগুলি বিক্রি হচ্ছে। নকশা না থাকায় অ্যাসেসমেন্ট করা যাচ্ছে না। শুধুমাত্র ‘পার্সন লায়াবেল’ অর্থাৎ নয়া মালিককে বাড়ির দখলদার হিসেবে দেখিয়ে ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। ফলে, তাঁরা মিউটেশন করা বা সম্পত্তি করের স্ব-মূল্যায়ন করতে চাইছেন না। যার জেরে বিপুল কর হাতছাড়া হচ্ছে। 
অন্যান্য বিভাগ যেমন জঞ্জাল সাফাই, বাজার, বিনোদন, পার্কিং, লাইসেন্স বিভাগের আয় ‘ভালো’ হলেও তা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন ফিরহাদ। লাইসেন্স বিভাগে লোকবল বাড়ানোর দাবি উঠেছে বৈঠকে। বিষয়টি পুর কমিশনারকে দেখতে বলেছেন মেয়র। বিজ্ঞাপন বিভাগের আয় গত অর্থবর্ষে ২৫ কোটি টাকা হয়েছিল। সেখানে চলতি বছর এখনই ২২ কোটি টাকা আদায় হয়ে গিয়েছে। আর্থিক বছরের শেষে তা ৩০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে খবর, এ কথা শুনে মেয়র বলেন, ভুবনেশ্বর পুরসভা বিজ্ঞাপন খাতে ২০০ কোটি টাকা আয় করছে। কলকাতা কেন পারছে না? যা করার তাড়াতাড়ি করুন।
সম্পর্কিত সংবাদ