Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজনগরের জঙ্গলে অবৈধ শ’ মিলের রমরমা, অবাধে বিকোচ্ছে চোরাই কাঠ

রাজনগরের জঙ্গলে অবৈধ শ’ মিলের রমরমা, অবাধে বিকোচ্ছে চোরাই কাঠ
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, সিউড়ি: রাজনগরের জঙ্গলমহল এলাকায় গজিয়ে উঠছে একের পর এক কাঠ চেরাই মিল। এই সব মিল থেকে বেআইনি ভাবে বিক্রি হচ্ছে কাঠ। সেই কাঠ চলে যাচ্ছে আসবাব পত্র তৈরির দোকান সহ অন্যান্য জায়গায়। জানা গিয়েছে, রাজনগর থেকে কিলোমিটার খানেক দূরে ঝাড়খণ্ড সীমানা। সীমানার অপর প্রান্তেও রয়েছে একাধিক বেআইনি কাঠ চেরাই মিল। দুই রাজ্যের এই মিলগুলির মধ্যে গোপন আঁতাতে কাঠের বেআইনি কারবার চলছে বলে অভিযোগ।  এই সব মিলগুলির অধিকাংশের বৈধ লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ বৈধ মিল মালিকদের একাংশের। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এই বেআইনি মিলগুলিতে বনদপ্তর ও প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি করেছেন বাসিন্দারা। 
Advertisement
রাজনগরকে জঙ্গলমহল বলা হয়। কারণ এখানে রয়েছে ঘন জঙ্গল। এই জঙ্গল ঝাড়খণ্ড অবধি বিস্তৃত। জঙ্গলের অদূরেই রয়েছে দুই রাজ্যে যাতায়াতের একাধিক সড়কপথ। এই জঙ্গলে সকলের অগোচরে ধীরে ধীরে কেটে সাফ করে দিচ্ছে কাঠ মাফিয়ারা।  
শ’ মিল ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, এই মিলগুলিতে গাছের গুঁড়ি কেটে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিক্রি করা হয়। রাজনগরে বেশকিছু বৈধ কাঠের মিলও রয়েছে। তাদেরও একাংশের দাবি, অবৈধ কাঠের মিলগুলির দিকে প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। না হলে বৈধ মিলগুলি ক্ষতির মুখে পড়ছে। 
স্থানীয় বাসিন্দা সমরেশ বিষ্ণু বলেন, রাজনগরের জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে পাচারের ঘটনা নতুন নয়। এই জঙ্গল রক্ষা করতে সরকারকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। বনদপ্তর, পুলিস ও প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া এই ভাবে দিনের পর দিন  জঙ্গল সাফ করা অসম্ভব।  যদিও বনদপ্তরের কর্তাদের একাংশের দাবি, জঙ্গল থেকে গাছের পাচার বন্ধের জন্য যে নজরদারি রাখা উচিত তার জন্য যথেষ্ট কর্মী নেই। জঙ্গলে বড় গাড়ি ঢোকা বন্ধ করতে গর্ত কাটা হয়েছে। তাতে কাঠ পাচার কিছুটা হলেও ঠেকানো যাবে। কিন্তু তারপরও গাছ কেটে পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। 
রাজনগরের একটি শ’ মিলের মালিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, এইসব চোরা কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলা ঝুঁকির। কারণ এদের পিছনে প্রভাবশালীদের মদত রয়েছে। রাজনগরের মধ্যেই বেশকিছু শ’ মিল রয়েছে। যেখান থেকে চেরাই করা কাঠ কিনলে তাঁরা বিল দেয় না। চিরকুট কাগজে লিখে দিনের পর দিন কাঠ বিক্রি করছে। এতে সরকারের প্রচুর রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের মতো বৈধ শ’ মিল মালিকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করলেই জানতে পারবে প্রশাসন।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ