Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

রাজধানীতে ভোট ৫ ফেব্রুয়ারি, বিজেপির, ২৭ বছরের খরা কাটানোই চ্যালেঞ্জ মোদির  

রাজধানীতে ভোট ৫ ফেব্রুয়ারি, বিজেপির, ২৭ বছরের খরা কাটানোই চ্যালেঞ্জ মোদির  
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্বাধীনতার পর প্রথম বার ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরি নামক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন এবং পূর্ণাঙ্গ বিধানসভা তৈরি হয় ১৯৯৩ সালে। নির্বাচনও সেই বছর। প্রথম নির্বাচনেই দিল্লিতে সরকার গঠন করে বিজেপি। ১৯৯৩ সালে। এবং শেষবার। ১৯৯৮ সালে বিধানসভার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী নির্বাচনে সেই যে বিজেপি পরাস্ত হল, দিল্লির সরকারে আর ফিরতে পারেনি। ২৭ বছর হয়ে গেল দেশের রাজধানীর সরকার বিজেপির হাতছাড়া হয়েই রয়ে গিয়েছে। এই সময়কালে কখনও কেন্দ্রে অটলবিহারী বাজপেয়ির সরকার এসেছে। ১০ বছরে নরেন্দ্র মোদির সরকার হয়ে গেল। কিন্তু লোকসভায় বিজেপিকে দু হাত ভরে ভেট দিলেও বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করে দিল্লির দেড় কোটির বেশি ভোটার। এই রাজনৈতিক অভিশাপ থেকে বিজেপি মুক্ত হতে পারল না মহাশক্তিধর নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি সত্ত্বেও। অর্থাৎ মোদি সারা বছর যে শহরে বাস করেন, সেই শহরে দলকে জেতাতে পারেননি একবারও। এমনকী তিনি নিজে যে বিধানসভা কেন্দ্রে বসবাস করেন, সেখানেও জয়ী হয় আম আদমি পার্টি। তৃতীয়বার মোদির সামনে আবার এসেছে চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে, দিল্লির বিধানসভা ভোট আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি। গণনা এবং ফলপ্রকাশ ৮ ফেব্রুয়ারি। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বছরের শুরু থেকেই প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন ঩মোদি। প্রকল্প উদ্বোধন অথবা রাজনৈতিক কর্মসূচি, তিনি প্রচার শুরু করেই দিয়েছেন। মোদিরও এই শেষ সুযোগ। পরবর্তী ভোট যখন হবে, মোদির বয়স তখন প্রায় ৮০। সুতরাং দিল্লি ‘এবার, নয় নেভার’ মোদির কাছে। 
Advertisement
৭০ আসনের দিল্লিতে ২০১৫ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কয়েকবছরের পুরনো দল আম আদমি পার্টি ম্যাজিক দেখায়। তিনি একাই জয়ী হন ৬৭ আসনে। মাত্র তিনটি আসনে জয়ী হয় বিজেপি। কংগ্রেস শূন্য। ২০২০ সালে প্রায় একই ফলাফল। বিজেপি ৮ আসনে জয়ী। যে কেজরিওয়াল দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের রথে চেপে দিল্লির গদিতে বসেছিলেন, তাঁর প্রায় গোটা মন্ত্রিসভাই জেলে চলে যায় আবগারি দুর্নীতি মামলায়। এখনও তিনি নিজে ও প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিশোদিয়া জামিনে মুক্ত রয়েছেন। জেল থেকে বেরিয়ে ভোটের প্রাক্কালে কেজরিওয়াল যথারীতি দিয়েছেন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ মাস্টারস্ট্রোক। ঘোষণা করেছেন, ভোটে জিতলে দিল্লির সব মহিলাকে ২১০০ টাকা করে প্রতি মাসে দেওয়া হবে। সঙ্গে প্রত্যেক মন্দিরের পুরোহিতরা পাবেন মাসে ১৮ হাজার টাকা ভাতা। পিছিয়ে ঩নেই কংগ্রেসও। তাদের ঘোষণা ক্ষমতাসীন হলে, তারা দেবে মাসে ২৫০০ টাকা। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সব দলে। বাকি রইল বিজেপি। বিজেপির আপাতত শ্যাম রাখি না কুল অবস্থা! কারণ নরেন্দ্র মোদি এসব আর্থিক অনুদান দেওয়াকে রেউড়ি মনে করেন। যে শহরে তিনি বাস করেন, সেই শহরে তাঁর দলের জয়ের জন্য তাঁর মুখই তো যথেষ্ট! রেউড়ির কি দরকার আছে? আপাতত অপেক্ষা নরেন্দ্র মোদির এই আত্মবিশ্বাস কি দিল্লির ভোটে দেখা যাবে? নাকি কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর দলও একইরকম কোনও ঘোষণা করবে? 
সম্পর্কিত সংবাদ