সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: অক্ষরধাম, রামের অকালবোধন, কপালকুণ্ডলা, মহালয়া-পাহাড়ি লোকসংস্কৃতি, কিংবা মাদুর, পাখা দিয়ে মণ্ডপসজ্জা। এছাড়া আছে টেরাকোটা শিল্পও। বারুইপুরে একে অপরকে টেক্কা দিতে তৈরি পুজো কমিটিগুলি। মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে।
সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: অক্ষরধাম, রামের অকালবোধন, কপালকুণ্ডলা, মহালয়া-পাহাড়ি লোকসংস্কৃতি, কিংবা মাদুর, পাখা দিয়ে মণ্ডপসজ্জা। এছাড়া আছে টেরাকোটা শিল্পও। বারুইপুরে একে অপরকে টেক্কা দিতে তৈরি পুজো কমিটিগুলি। মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে।
বারুইপুর উকিলপাড়া ভাই ভাই সংঘের পুজো চমক নিয়ে তৈরি। তাদের পুজো এবার ৫৭ বছরে পা দিয়েছে। পুজো কমিটির সদস্য অরিজিৎ ভট্টাচার্য জানান, এবার আমাদের মণ্ডপ গান্ধীনগরের স্বামী নারায়ণ অক্ষরধাম মন্দিরের (ঐশীক্ষেত্র) আদলে হচ্ছে। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। অন্যান্য বছর দুর্গা সাবেকি ঢঙের হত। এবার রূপে বদল। ঘরের মেয়ের বেশে বেনারসি পরে দুর্গা আসছেন তাঁর পরিবার নিয়ে। আলোকসজ্জাতে চমক থাকবে।
বারুইপুর ভট্টাচার্য পাড়া সার্বজনীনের পুজো এবার পঞ্চাশ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্মকর্তা সৌম্যদীপ মুখোপাধ্যায় ও ছন্দক ভট্টাচার্য জানান, এবার আমাদের থিম অনুভূতি। রামচন্দ্র অকালবোধনে দুর্গার পুজো করার সময় ১০৭ পদ্ম পেয়েছিলেন। দরকার ছিল ১০৮টি। তাই তাঁর নীলবর্ণ চোখ সমর্পণ করতে চেয়েছিলেন। এটা ছিল তাঁর অনুভূতি। এই বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে। আমাদের মণ্ডপ পরিবেশবান্ধব। আমরা সামাজিকতায় জোর দিয়ে থাকি।
বারুইপুরের আরও একটি নামকরা পুজো হল পদ্মপুকুর ইউথ ক্লাবের। সেটি এবার ১০৭ বছরে পড়েছে। এবার শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যা। তিনি বলেন, এবারের থিম দুর্গা শরণং। সিকিম, ভুটান সহ বিভিন্ন পাহাড়িয়া এলাকার লোকসংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। গাছের পাতা, ফুল, ফল দিয়ে হচ্ছে মণ্ডপ।
বারুইপুরের পিরপুকুরের বিধান সরণি দুর্গোৎসব কমিটির পুজো এবার ২১ বছরে পড়েছে। থিমে অভিনবত্ব এনেছে কমিটি। কমিটির সদস্য পৌলমী পুরকাইত জানান, মাদুর, পাখা, গামছা, কুলো, ঝুড়ি দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া সার্বজনীন পুজোয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা থিম করেছে। কমিটির কর্তা সজল মিত্র জানান, আমাদের পুজো ৪৫ বছরে পড়েছে। মা হবেন সাবেকি। মণ্ডপে ঘরোয়া পরিবেশ তুলে ধরা হবে। থাকবে চন্দননগরের আলোকসজ্জা।
বারুইপুরের ঋষি বঙ্কিম নগর আদি সার্বজনীনের পুজো এবারে ৪৫ বছরে পা দিয়েছে। কমিটির কর্মকর্তা মলয় চট্টোপাধ্যায় জানান, এবার থিম হচ্ছে আবাহন। মণ্ডপসজ্জায় টেরাকোটার কাজ তুলে ধরা হবে। আর্ট কলেজের ছাত্ররা পটচিত্র তৈরি করছেন। আঁকা হচ্ছে আলপনা। ঘরোয়া পরিবেশ তৈরি হবে। সেখানে হবে মায়ের আরাধনা।
বারুইপুর কিশোর সংঘের পুজো ৪৯ বছরের। পুজো মণ্ডপ একটি মন্দিরের আদলে নির্মিত হচ্ছে। এর পাশাাপশি চম্পাহাটি বান্ধব সমিতির পুজো এবার ৭৮ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা মান্নান নস্কর জানান, থিম হচ্ছে দুর্গা দুর্গতিনাশিনী। মহালয়ার চিত্র তুলে ধরা হবে একেবারে লাইভ। দুর্গা ও অসুরের যুদ্ধ দেখানো হবে। এছাড়া বারুইপুর উকিলপাড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো এবার ৬৯ বছরে পা দিল। পুজো কমিটির সম্পাদক নিরুপম দাস জানান, এবার আকর্ষণ শিল্পী প্রদীপ রূদ্র পালের সাবেকি ঘরানার প্রতিমা।