নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাজ্যে পালাবদলের প্রভাব এড়ানো যাচ্ছে না পুজোর আয়োজনেও। হুগলির চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর সুনাম বিশ্বজনীন। আবার, রিষড়ার জগদ্ধাত্রী পুজোও বেশ কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় হয়েছে। সেই পুজো কমিটিতে এবার বিজেপির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল। বস্তুত একদা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীরাই ওই পুজো কমিটির পদাধিকারী ছিলেন। নতুন কমিটিতে তাঁদের কার্যত ছেঁটে ফেলে বিজেপির আগমার্কা নেতারা পদে বসেছেন। মঙ্গলবার রিষড়ার জগদ্ধাত্রী পুজো আয়োজনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি হয়েছে। তাতে সভাপতি ও সহ সভাপতি পদে বসেছেন বিজেপির দুই স্থানীয় নেতা তথা রিষড়া পুরসভার দুই প্রাক্তন কাউন্সিলার। অধিকাংশ পদেই বসানো হয়েছে রিষড়ার পরিচিত বিজেপি নেতা-কর্মীদের।
বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষো শুরু হলেও তৃণমূলের নেতারা অবশ্য মুখ খুলতে নারাজ। বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টিকে ‘দখলদারি’ না বলে ‘সময়ের দাবি’ বলতে চাইছে। শুনে হাসছে বাম নেতারা। আরএসপির জেলা সম্পাদক মৃণ্ময় সেনগুপ্ত বলেন, আমরা কখনও পুজোর বিষয়ে নাক গলাইনি। তৃণমূল পুজোর আয়োজনে একটি নয়া সংস্কৃতি তৈরি করেছিল। সেই পথ ধরেই বিজেপি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দেখাচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক ছিল। নতুন কমিটিতে সহ সভাপতি হয়েছেন রিষড়া পুরসভার বিজেপির প্রাক্তন কাউন্সিলার মনোজ সিং। তিনি বলেন, আমরা পুজোর আয়োজনে রাজনৈতিক রং লাগাতে চাই না। আমি রিষড়ার নাগরিক হিসাবে পুজোর আয়োজনে আছি। তবে এটা ঠিক যে, পুজোর উদ্যোক্তারা নানা প্রয়োজনে শাসকদলের সদস্যদের কমিটিতে রাখতে চেয়েছিলেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও তৈরি হয়নি। ফলে, তৃণমূলের নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে যে জল্পনা চলছে, তা ঠিক নয়।
একদা জগদ্ধাত্রী পুজোর কেন্দ্রীয় কমিটির পদাধিকারী তথা সর্বময় কর্তা ছিলেন রিষড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তৃণমূল নেতা বিজয় মিশ্র। এনিয়ে বিজয়বাবু কোনো মন্তব্য করতে চাননি। মমতা-তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, রিষড়ায় কী হয়েছে, তা জানি না। তবে আমরা পুজোর আয়োজনে কখনও দল ও মতের ভেদাভেদ করিনি।
চন্দননগরের পর রিষড়ার জগদ্ধাত্রী পুজো হুগলির অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব। সেই পুজো আয়োজনের কেন্দ্রীয় কমিটি সম্প্রতি তৈরি হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, সেখানে বিজেপির লোকজনই সিংহভাগ। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে, বিজেপির প্রাক্তন কাউন্সিলার শশী সিংকে। একাধিক সহ সভাপতির মধ্যে অধিকাংশই বিজেপির পরিচিত মুখ। অতীতে তৃণমূল নেতা বিজয় মিশ্র থেকে জাহিদ খান— পদাধিকারী ছিলেন। এবার তাঁদের নাম নেই। পদাধিকারীদের দাবি, সদস্যদের ভোটেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিজস্ব চিত্র