Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

রিঙ্কুর ব্যাটে শাপমুক্তি কেকেআরের, রাজস্থানকে বশ মানিয়ে প্রথম জয় নাইটদের বল হাতে বিধ্বংসী বরুণ-কার্তিক

জয়ের তিলক যদি আপনার কপালে লেখা থাকে, তাহলে কেউ আটকাতে পারবে না। তারই সাক্ষী থাকল রবিবারের ইডেন। ভেন্টিলেশন থেকে দলকে জেনারেল বেডে ফিরিয়ে আনলেন রিঙ্কু-অনুকূল জুটি।

রিঙ্কুর ব্যাটে শাপমুক্তি কেকেআরের, রাজস্থানকে বশ মানিয়ে প্রথম জয় নাইটদের  বল হাতে বিধ্বংসী বরুণ-কার্তিক
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: জয়ের তিলক যদি আপনার কপালে লেখা থাকে, তাহলে কেউ আটকাতে পারবে না। তারই সাক্ষী থাকল রবিবারের ইডেন। ভেন্টিলেশন থেকে দলকে জেনারেল বেডে ফিরিয়ে আনলেন রিঙ্কু-অনুকূল জুটি। তাঁদের চোয়ালচাপা লড়াইয়ের সুবাদে দু’বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে রাজস্থান রয়্যালসকে বশ মানিয়ে এবারের আইপিএলে প্রথম জয়ের মুখ দেখল কলকাতা নাইট রাইডার্স (১৯.৪ ওভারে ১৬১-৬)! ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতানোর পর অনুকূল রায়কে জড়িয়ে ধরলেন রিঙ্কু। গ্যালারি জুড়ে তখন শুধু কেকেআর... কেকেআর...।

Advertisement

নাইটদের শিবিরে যখন উচ্ছ্বাসের ছবি, তখন রাজস্থান শিবিরে শোকের আবহ। আন্দ্রে বার্গার মাথা গুঁজে বসে আছেন ডাগ-আউটের সামনে। তাঁর ভুলই যে ম্যাচে ফিরিয়েছে প্রতিপক্ষকে! তিনি যদি ৮ রানের মাথায় রিঙ্কুর ক্যাচটা না ফেলতেন, তাহলে হয়তো সপ্তম ম্যাচেও জয় অধরাই থাকত কেকেআরের। সাধে কী আর কথায় বলে, ক্যাচেস উইন ম্যাচেস। এদিনও বার্গারের ক্যাচ মিসটাই হয়ে রইল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। রিঙ্কু ও অনুকূল প্রমাণ করলেন, নামে কী আসে যায়। রিঙ্কু ফিনিশার হিসেবে আগেই প্রতিষ্ঠিত। তবে এই মরশুমে ফর্ম হাতড়াচ্ছিলেন। বার্গারের হাত থেকে জীবন ফিরে পাওয়ার পর দায়িত্বশালী ব্যাটিংয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি। তবে সমর্থকদের চোখে অনুকূলই ‘বাজিগর’। ৩৪ বলে রিঙ্কু ৫৩ ও অনুকূল ১৬ বলে ২৯ রানে থাকলেন অপরাজিত। তাঁদের এই সাফল্য কি নাইট শিবিরের অন্ধকার পুরোপুরি ঘোচাতে পারল? ফিন অ্যালেন আর সেইফার্ট যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দু’জনেই ব্যর্থ। রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ফেরেন সেইফার্ট। খাতা না খুলেই আউট রাহানে (০)। তার উপর গ্রিনের (২৭) স্টাম্প আউট নাইটদের প্রবল চাপে ফেলে দেয়। একটা সময় স্কোর ছিল ৮৫-৬। রঘুবংশী (১০), রভম্যান পাওয়েল (২৩), রামনদীপরা (১০) ততক্ষণে ডাগ-আউটে। তার পরেও ম্যাচ জেতাটা নাইটদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।
দুপুর থেকেই ভিড় বাড়ছিল ইডেনের গ্যালারিতে। বিস্ময় কিশোর বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং কেউ মিস করতে চায় না। তার উপর টস জিতে ব্যাট নিয়েছে রাজস্থান। তবে যতটা আশা করা হয়েছিল, সেই ঝাঁঝ দেখা গেল না বৈভবের ব্যাটে। ২৮ বলে ৪৬। ছ’টি বাউন্ডারির পাশাপাশি দু’টি ওভার বাউন্ডারিও উপহার দিয়েছে তরুণ প্রতিভা। কিন্তু আগের ম্যাচগুলিতে যেভাবে বুমরাহ, হ্যাজলউডদের বল গ্যালারিতে পাঠিয়েছে, ইডেনের ইনিংস তার ধারেকাছে নয়। আসলে পিচটাই ছিল একটু মন্থর। নারিন ও বরুণ বোলিংয়ে আসার পরেই রাজস্থানের ব্যাটিংয়ে ধসের শুরু। ওপেনিং জুটিতেই যশস্বী-বৈভব যোগ করেছিল ৮১। সেখান থেকে আচমকা স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ১২৪-৫। পর পর ফেরেন বৈভব (৪৬), জুরেল (৫), যশস্বী (৩৯), রিয়ান (১২) ও ফেরেইরা (৭)। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৫৫ তোলে রাজস্থান। অনেকদিন পর বরুণকে (৪-০-১৪-৩) ছন্দে দেখা গেল। উল্টো দিক থেকে চাপ তৈরি করেন নারিনও (৪-০২৬-২)। তাঁরা ভাগ করে নেন পাঁচ উইকেট। ২২ রানে তিন উইকেট নিলেন কার্তিক ত্যাগীও। 
১৫৬ রানের টার্গেট তাড়া করে কেকেআর জিতল ঠিকই, তবে অনেক দুর্বলতাই কাটিয়ে ওঠা গেল না। রাহানে কি দেওয়াল লিখন পড়তে পারছেন? পর পর দুই ম্যাচে শূন্য, ভুলে ভরা অধিনায়কত্ব— কিং খানের ভরসা হারানোর পক্ষে যথেষ্টই। তাই সম্মান থাকতে থাকতে ভিআরএস নেওয়া ভালো। রামনদীপকেও ডাগ-আউটে বসানো উচিত। বেশকিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে এই জয় ফিকে হতে সময় লাগবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ