পাটনা: টানাটানির সংসারে ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছিল বিহারের কানহাইয়া মাহাতর। সেই চাপই আর সহ্য করতে পারল না গোটা পরিবার। শনিবার কাকভোরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চারজনের। কানহাইয়া মারা গিয়েছেন। আর বাকি তিনজনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার মধ্যে রয়েছে কানহাইয়ার স্ত্রী গীতা এবং দুই মেয়ে। পুলিস জানিয়েছে, ছোট ছেলে রাকেশের মুখে বিষের ট্যাবলেট দেওয়ার পর সে ফেলে দিয়েছিল। সে কারণেই তার কিছু হয়নি। বিহারের বাঙ্কা জেলার এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিন কানহাইয়ার বোনের কাছে তাঁর বাড়ি থেকেই ফোন যায়। তড়িঘড়ি তিনি ভাইয়ের বাড়িতে এসে ঘটনার খবর পান। অসুস্থ চারজনকে অমরপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছনোর আগেই মারা যান কানহাইয়া। হসপাতালের বেডে শুয়ে তাঁর ১৬ বছরের মেয়ে সবিতা জানান, মা-বাবা বলেছিল যে আমরা সকলেই বিষ খাব। রাত ২টো নাগাদ বাবা আমাদের একটি ট্যাবলেট দেয়। সেটি খাওয়ার পরই আমাদের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কানহাইয়া সকলকে সালফাস ট্যাবলেট দিয়েছিলেন। সাধারণত পেস্টিসাইড হিসেবে ব্যবহৃত হয় সালফাস। পুলিস জানিয়েছে, পেশায় অটোচালক কানহাইয়া বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তা মেটাতে না পারায় লাগাতার তাঁর বাড়িতে রিকভারি এজেন্টরা হানা দিচ্ছিলেন। সেই লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরেই পরিবার সমেত কানহাইয়া আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।



