Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঋণ করে প্রতিমা গড়ার পর লাভ  নেই, কল্যাণীতে হতাশয় শিল্পীরা

ঋণ করে প্রতিমা গড়ার পর লাভ  নেই, কল্যাণীতে হতাশয় শিল্পীরা
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কল্যাণী: সামনেই সরস্বতী পুজো। বাঙালির ঘরে ঘরে চলে বাণীবন্দনা। তাই পর্যাপ্ত প্রতিমার জোগান দিতে এই মুহূর্তে দম ফেলার সময় নেই পালপাড়াগুলিতে। প্রতিমা গড়ার কাজে স্বামীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রীরাও। এমনিতেই এই পেশায় নানা সমস্যা থাকায় মুখ ফিরিয়েছেন অনেকে। এমনকী বাপ ঠাকুরদার এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলেও যাচ্ছেন অনেকে। নানা প্রতিকূলতাই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির প্রধান উপকরণ মাটির দাম হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। এছাড়াও মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের জেরে প্রশাসনিক কড়াকড়ির জন্য পর্যাপ্ত মাটি পেতেও সমস্যা হচ্ছে। মৃৎশিল্পীদের দাবি রং, তুলি, খড় বা বিচুলি, সুতলি, প্রতিমার সাজ সরঞ্জাম, রং করার মেশিন ও বিদ‍্যুতের মাশুল– এই সবেরই দাম অনেক বেড়ছে। এসব মিটিয়ে হাতে কিছুই থাকছে না।
Advertisement
চাকদহ ব্লকের চাঁদুড়িয়া-১ পঞ্চায়েতের মধ‍্য চাঁদুড়িয়ার এক পালবাড়ির সদস্য লক্ষ্মীরানি পাল সংসারের কাজ সামলে স্বামীর পাশাপাশি মাটি ছেঁচা থেকে প্রতিমা গড়া, এমনকী রং করা সহ চোখ আঁকার কাজও করছেন। তিনি বলেন, মাটি পেতে সমস্যা হচ্ছে। তবুও এই বছর প্রায় সাতশো ছাঁচের প্রতিমা তৈরি করেছি। চাকদহ, শিমুরালি, মদনপুর এবং কল‍্যাণীতে পুজোর দু’দিন আগে থেকে বাজারে প্রতিমা নিয়ে যাব। তবে তার জন্য ভ‍্যান ভাড়া, বাজারের দাদন, দুই তিনটে লোকের মজুরি দিয়ে আমাদের হাতে কিছুই থাকে না। এর উপর সবটাই বাজারের উপর নির্ভর করে।
একই কথা জানান জগবন্ধু পাল ও তাঁর ভাইপো উত্তম পাল। তাঁরা বলেন, আমাদের দুঃখের কথা আর কাকে বলব। প্রায় নব্বইটা কাঠামোর প্রতিমা বানিয়েছি। মাত্র দু’টির অর্ডার পেয়েছি। প্রতিমা তৈরি করে, তার সাজ-সরঞ্জাম কিনতেই আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি। তারপর প্রতিমা যদি বিক্রি না হয়, তবে ঋণের বোঝা চেপে বসবে। তখন কী করে ঋণের টাকা শোধ দেব, জানি না। এই কাজে এত ঝুঁকি থাকায় অনেকেই পেশা বদল করছেন। আমরা চাই সরকার আমাদের কথা ভাবুক। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ