Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬

পাতে ভাত না রুটি? স্মার্টফোন আছে? সেন্সাসে হাউসহোল্ড সার্ভে, হাঁড়ির খবর নেবে মোদি সরকার

প্রক্রিয়ার নাম হাউস লিস্টিং। অর্থাৎ দেশে মোট কতগুলি বাড়ি রয়েছে, তার তালিকা তৈরি। কিন্তু শুধু সংখ্যাতেই সমাপ্ত হবে না এই পর্ব।

পাতে ভাত না রুটি? স্মার্টফোন আছে? সেন্সাসে হাউসহোল্ড সার্ভে, হাঁড়ির খবর নেবে মোদি সরকার
  • ৬ জুন, ২০২৫ ১৩:০৬

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রক্রিয়ার নাম হাউস লিস্টিং। অর্থাৎ দেশে মোট কতগুলি বাড়ি রয়েছে, তার তালিকা তৈরি। কিন্তু শুধু সংখ্যাতেই সমাপ্ত হবে না এই পর্ব। আগামী সেন্সাস কর্মসূচির এই প্রথম ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তো বটেই, অনলাইনেও অন্তত ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আম জনতাকে। সেই প্রশ্নাবলির মধ্যে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রতিটি পরিবারের জীবনযাপনের সন্ধান করবে সেন্সাস। কী থাকবে সেই তালিকায়? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে কিছু নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। আপনি কি ভাড়াবাড়িতে থাকেন? নাকি নিজের? বাড়ি কী উপকরণ দিয়ে তৈরি? সিমেন্ট নাকি মাটি? দেওয়ালের উপকরণ কী? বাঁশ, কাঠ, ঘাসপাতা, টিন, নাকি ইট? ছাদের উপকরণ কী? আর এ সবে শুরু। হাউস লিস্টিং পর্বে ভারতবাসীর আর্থ সামাজিক যাবতীয় তথ্য জানাতে হবে মোদি সরকারকে। পরিবারে কোন শস্য বেশি থাকে খাদ্যতালিকায়? ভাত? নাকি রুটি? রুটি হলে কোন শস্য? গম? জোয়ার-বাজরা অথবা অন্য কিছু? এর কারণ কী? কিছুদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী চিরাচরিত শস্যের পরিবর্তে মিলেট খাওয়ার পক্ষে প্রবল সওয়াল করছেন। বাজেটে মিলেটের জন্য বিশেষ ছাড় ও অর্থবরাদ্দ করা হয়েছে। গোটা বিষয় যে পরিকল্পিত, এই প্রশ্নই তার প্রমাণ। 

Advertisement

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জনসংখ্যার গণনা শুরুর আগেই হবে এই হাউস লিস্টিং। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকেই। আগামী ১৬ জুন গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার কথা। সেদিন থেকেই শুরু হবে প্রক্রিয়া। দেড় বছর ধরে চলবে দেড় দশক পর হতে যাওয়া জনগণনার কর্মযজ্ঞ। আর সবথেকে বেশি চর্চার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়াতে চলেছে এই প্রশ্নাবলি। বাড়িতে দম্পতি কতজন? বিবাহিত? এই প্রশ্ন কেন? কারণ, লিভ ইন রিলেশনশিপের সংখ্যা কত, সেটা জানতে চায় সরকার? অভিন্ন দেওয়ানি বিধির চর্চায় লিভ ইন সম্পর্কের মান্যতা দেওয়া হবে কি না, সেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। জানতে চাওয়া হবে, বাড়িতে শৌচালয় আছে কি না। থাকলে তা বাড়ির কোথায় আছে? শৌচালয়, রান্না, স্নান এবং পানীয়—এসব কাজে জলের উৎস কী? রান্না কোথায় হয়? ঘরে? নাকি বাইরে? পৃথক রান্নাঘর নেই? এর সঙ্গেই আসবে মোদি সরকারের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কুকিং মিডিয়াম কী? অর্থাৎ রান্নার জ্বালানি। কারণ, এই পরিসংখ্যান থেকেই জানা যাবে, আদতে উজ্জ্বলা গ্যাস যোজনার হাল হকিকৎ কী। এখানেই শেষ নয়। মোদি সরকার জানতে চায়, ভারত প্রযুক্তিগতভাবে কতটা আধুনিক হল। তাই প্রশ্ন করা হবে, আপনার পরিবারে ক’টা মোবাইল আছে? তার মধ্যে স্মার্টফোন ক’টা? এভাবে সেন্সাস খতিয়ে দেখবে পুরুষতান্ত্রিকতার প্রবণতাকেও। অর্থাৎ, কাদের হাতে স্মার্টফোন অনেক বেশি। প্রশ্ন থাকবে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট নিয়ে। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ব্রডব্যান্ড এবং ওয়াইফাই— কী আছে বাড়িতে? বাড়ির সদস্যরা কীভাবে যাতায়াত করেন? কাদের বাড়িতে গাড়ি অথবা মোটরসাইকেল আছে, সেটা লিখতে হবে। এমনকী জানাতে হবে সাইকেল থাকলেও। আবার রেডিও, টিভির সংখ্যা কত, সেই তালিকা তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্র।  
১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতে প্রথম সেন্সাস হয়েছিল। ৭৫ বছর পরও যে গ্রামীণ ভারতের অন্যতম তিনটি ইস্যুর পূর্ণ সমাধান হয়নি, সেকথা মোদি জানেন। তাই প্রশ্ন থাকবে, বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে? জল কত দূরে? সামনে রাস্তা আছে? অর্থাৎ বিজলি-পানি-সড়ক! আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ! 

সম্পর্কিত সংবাদ