Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেওয়াল লিখনে ছড়া, সোশ্যাল মিডিয়াতেও জমজমাট ‘ভোটযুদ্ধ’

‘মমতা এক অগ্নিশিখা, দম থাকলে আটকে দেখা, দিদি মোদের বিদ্রোহিনী, ফিরছে আবার দিদিমণি।’ কোথাও লেখা হয়েছে ‘মা-বোনেরা বেঁধে জোট, তৃণমূলেই সব ভোট

দেওয়াল লিখনে ছড়া, সোশ্যাল মিডিয়াতেও জমজমাট ‘ভোটযুদ্ধ’
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ পাল,মানকর: ‘মমতা এক অগ্নিশিখা, দম থাকলে আটকে দেখা, দিদি মোদের বিদ্রোহিনী, ফিরছে আবার দিদিমণি।’ কোথাও লেখা হয়েছে ‘মা-বোনেরা বেঁধে জোট, তৃণমূলেই সব ভোট।’ আবার দেখা যাচ্ছে, ‘চাকরি চুরির জোয়ায় এল, যোগ্যরা সব পথে। দুই ফুলেতে ভোট দিলে ভাই, টান পড়বে পেটে।’ এবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এভাবেই রাজনৈতিক দলগুলি ছন্দ মিলিয়ে ছড়া-টিপ্পনিতে একে অপরকে আক্রমণ করছে। দেওয়াল লিখনের সঙ্গে ফেস্টুনে প্রচারে ছড়ার ব্যবহার চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এরকম ছড়া ফুটে উঠছে। তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম সব দলই এবার প্রচারে ছড়ার ব্যবহার করেছে। গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কাঁকসা, বুদবুদ, মানকর, গলসিতে সেই ছবি দেখা যাচ্ছে।

Advertisement

গলসি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অলোককুমার মাঝির সমর্থনে দলীয় কর্মী- সমর্থকরা একাধিক জায়গায় দেওয়াল লিখন করছেন। সেখানে ছড়া লেখা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ জীবনযাপন ও নরেন্দ্র মোদির দামি স্যুট নিয়ে মানকরে লেখা হয়েছে ‘আশি টাকার হাওয়াই চটি, তিনশো টাকার শাড়ি। দশ লাখের ড্রেসের থেকে অনেক বেশি ভারী।’ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, ‘কেরোসিন আর গ্যাসের দাম, হায়রে মোদি এবার থাম। প্রাণটা শুধু লুটতে বাকি, এটাও নিতে আসবি নাকি।’ বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্রের সমর্থনে দেওয়াল লিখনে উঠে এসেছে আরজি কর, সন্দেশখালির প্রসঙ্গ। লেখা হয়েছে, ‘কয়লা খেলি, গরু খেলি, খেলি নদীর বালি, মা বোনেদের বাদ দিলি না, বলছে সন্দেশখালি।’ তবে তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষকেই আক্রমণ করেছে সিপিএম। লেখা হয়েছে, ‘চাকরি চুরির জোয়ায় এল, যোগ্যরা সব পথে। দুই ফুলেতে ভোট দিলে ভাই, টান পড়বে পেটে।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় গলসির সিপিএম প্রার্থী মণিমালা দাসের সমর্থনে প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দুই যুবকের মধ্যে একজন অপরজনকে লাঠি দিয়ে মারছে। একজনের পাশে তৃণমূল ও অন্যজনের পাশে বিজেপির ফুল চিহ্ন। কিছুক্ষণ পর দু’জনেই মারপিট থামিয়ে একসঙ্গে রওনা দিল। তারপরেই লেখা ‘লড়াই ঝগড়া ফেক হ্যায়, দোনো কা মালিক এক হ্যায়।’ পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও। তারা হাত শিবিরের প্রার্থী দেবাশিস বিশ্বাসের সমর্থনে দেওয়াল লিখন করেছে, ‘কারখানায় উঠবে ধোঁয়া, যদি পায় হাতের ছোঁয়া।’ মানকরের প্রবীণ বাসিন্দা আনন্দগোপাল গোস্বামী বলেন, ভোটের ছড়া বাংলা সংস্কৃতিরই একটি নিজস্ব অঙ্গ। ১৯৬৯সালের বিধানসভা ভোটের আগে শাপমোচন ছবির গানের আদলে কংগ্রেস লিখেছিল, ‘শোনো বন্ধু শোনো- ফ্রন্টের ওই ন’মাসের ইতিকথা, চোদ্দ জনের গোঁজামিলের, সে এক বীভৎসতা।’ পাল্টা, যুক্তফ্রন্ট অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা থেকে লিখেছিল, ‘কিল মারেনি, ঢিল মেরেছে! তাতেই তোমরা রুষ্ট হলে? তোমরা যখন হুকুম দিয়ে চালাও গুলি দুষ্ট বলে! তার বেলা?’ রাজনৈতিক নেতারাও মনে করছেন ছড়ার মাধ্যমে দলের স্লোগান, বক্তব্য খুব সহজেই সাধারণ ভোটাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ