Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

রাহুলে অনাস্থা, ইন্ডিয়ার নেতৃত্বে চাই মমতাকেই, শারদ-অখিলেশের পর দাবি লালুরও

রাহুলে অনাস্থা, ইন্ডিয়ার নেতৃত্বে চাই মমতাকেই, শারদ-অখিলেশের পর দাবি লালুরও
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: প্রথমে হরিয়ানা। তারপর মহারাষ্ট্র। লোকসভা নির্বাচনের ফলে কংগ্রেস যে ‘ওভার কনফিডেন্স’ উপসর্গে ভুগছে, তা একপ্রকার প্রমাণিত। আর তাতেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ আঞ্চলিক দলগুলি। লোকসভা ভোটের সময় থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আঞ্চলিক সমস্যা এবং স্থানীয় দল—এই দুই ফর্মুলাই বাজিমাত করছে বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে। ঠিক এই কারণেই বিজেপি স্রেফ স্থানীয় ইস্যু ধরে রাজনীতির ঘুঁটি সাজিয়ে চলেছে। আর ফাটল চওড়া হচ্ছে মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র। মুখ্য কারণ কী? একটাই—নেতৃত্ব। এবং ওই আসনে রাহুল গান্ধীকে মানতে নারাজ সিংহভাগ প্রধান আঞ্চলিক দলই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু মহারাষ্ট্র ভোটের পর রাহুলের বিরুদ্ধ অনাস্থা প্রকাশ করে একে একে বিস্ফোরণ শুরু হয়েছে। তাতে নতুন সংযোজন আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে জোটের নেত্রী চেয়ে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করব। তাঁর হাতেই জোটের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া উচিত। এব্যাপারে কারও আপত্তি থাকা উচিত নয়।’
Advertisement
অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি মহারাষ্ট্রে জোট ছেড়েছে। উদ্ধব থ্যাকারের শিবসেনা বুঝিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসের দাদাগিরি মেনে ‘ইন্ডিয়া’য় জো-হুজুর করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই দুই দলের সুর এক—নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চাই। জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেসও মমতার নেতৃত্বে আস্থা দেখিয়েছে। কারণ, বাংলায় এযাবৎকালে যত নির্বাচনী যুদ্ধ হয়েছে, তাতে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তায় আঘাত হানতে পেরেছেন তিনিই। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, মমতার মতো ট্র্যাক রেকর্ড কারও নেই। শারদ পাওয়ার নিজেই সম্প্রতি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন—‘মমতা দেশের একজন বড় নেত্রী। বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দিতে তিনি সক্ষম।’ শিবসেনা (উদ্ধব) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেছেন, ‘বাংলায় বিজেপির অপপ্রচার ও প্রতিশ্রুতির ধাপ্পা একা রুখে দিয়েছেন মমতা। তিনি নেতৃত্ব দিলে নিঃসন্দেহে জোট শক্তিশালী হবে।’
অর্থাৎ ছবিটা পরিষ্কার—মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতৃত্বে রাহুল গান্ধীকে মানতে নারাজ মুখ্য দলগুলিই। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে যা আসন পেয়েছে, তার নেপথ্যে হয় প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, না হলে আঞ্চলিক দলের মজবুত ভিত। তাই একটি সাক্ষাৎকারে ‘ইন্ডিয়া’র নেতৃত্বে তাঁর আপত্তি না থাকার কথা মমতা জানাতেই সমর্থনের ঢল নেমেছে ভারতজুড়ে। এই পরিস্থিতি কংগ্রেসের পক্ষে অস্বস্তিকর। উপরন্তু লালুপ্রসাদ সাফ জানিয়েছেন, ‘মমতার নেতৃত্ব নিয়ে কংগ্রেসের কোনও আপত্তি ধোপে টিকবে না। আমরা মমতাকেই সমর্থন করব।’ এই ইস্যুতে কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বলেছেন, ‘কংগ্রেসকে বুঝতে হবে, তাদের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া ব্লক সাফল্য পায়নি। মমতার হাতে নেতৃত্ব এলে তা জোটের পক্ষেই ভালো।’
সম্পর্কিত সংবাদ