Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টিনের চালের বাড়ি থেকে আকাশ ছুঁতে চায় মছলন্দপুরের ঋধিমা, রিয়েলিটি শো চ্যাম্পিয়ন মেয়ে

মছলন্দপুরের ১৩ বছরের ঋধিমা বিশ্বাস গানের রিয়েলিটি শো-তে বিজয়ী হয়েছে। তার সাফল্য পরিবারকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

টিনের চালের বাড়ি  থেকে আকাশ ছুঁতে চায় মছলন্দপুরের ঋধিমা, রিয়েলিটি শো চ্যাম্পিয়ন মেয়ে
  • ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ হয়। সেই শব্দের ফাঁকেই ভেসে আসে সরগম, সপ্তসুরে ভেসে যায় চারধার। যে ঘরে অনেক দিন নতুন জামা কেনার সুযোগ মেলেনি, সেই ঘর থেকেই এক কিশোরী এবার পৌঁছে গেল বিজয়ীর মঞ্চে। মছলন্দপুরের বিশ্বাসহাটি গ্রামের ১৩ বছরের ঋধিমা বিশ্বাস একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলে গানের রিয়েলিটি শো-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

Advertisement

শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখার মছলন্দপুর স্টেশন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রাজবল্লভপুরের বিশ্বাসহাটি গ্রাম। গ্রামের ঢালাই রাস্তা যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানেই ঋধিমাদের বাড়ি। ছয় ফুট বাই সাত ফুটের টিনের চাল দেওয়া ছোট্ট ঘর। সেই ঘরেই প্রতিদিন চলে রেওয়াজ। রাজবল্লভপুর ভূদেব স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঋধিমা। পড়াশোনার বইখাতা আর হারমোনিয়ামের রিড– এই দুটোই এখন তার নিত্যসঙ্গী। বাবা রানা বিশ্বাস গ্রামের বাজারে রাস্তার ধারে মুরগির মাংসের দোকান চালান। মা সোমা বিশ্বাস গৃহবধূ। অভাব তাদের সংসারের চেনা ছবি। কিন্তু মেয়ের গানের প্রতি অদম্য টান চোখ এড়ায়নি বাবা-মায়ের। টিভির পর্দায় গান বাজলেই ছোট্ট ঋধিমা গুনগুন করে গাইতে শুরু করত। মেয়ের চোখে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্নের দাম মেটানোর সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। হারমোনিয়াম কেনার মতো অর্থও ছিল না। শেষ পর্যন্ত জন্মদিনে মামার বাড়ি থেকে উপহার হিসেবে আসে একটি হারমোনিয়াম। সেই উপহারই বদলে দেয় এক কিশোরীর পথচলার গল্প। মাত্র তিন বছর বয়সে মছলন্দপুরের মনীষা ঘোষের কাছে গানের হাতেখড়ি। পরে অশোকনগরের মানসী ঘোষ দস্তিদারের কাছে তালিম। বর্তমানে অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিয়মিত সঙ্গীতচর্চা করছে ঋধিমা। স্কুলের প্রার্থনা সঙ্গীতেও তার নিয়মিত উপস্থিতি। ধীরে ধীরে ছোট্ট গ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে সে পৌঁছে যায় বড় মঞ্চের দোরগোড়ায়।
সম্প্রতি কলকাতার একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলে গানের রিয়েলিটি শো-তে প্রতিযোগী হিসেবে সুযোগ পায় ঋধিমা। একের পর এক কঠিন পর্ব পেরিয়ে পৌঁছে যায় চূড়ান্ত পর্বে। শেষ মুহূর্তে বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হয় ঋধিমার নাম।
বাবা রানা বিশ্বাস বলেন, সবে মেয়ের পথচলা শুরু। ও যেন গান নিয়েই আরও অনেক দূর যেতে পারে, এটাই চাই। কষ্টের মধ্যেও আমরা এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। টিনের চালার এই ঘর থেকেই একদিন ও যেন সত্যিই আকাশ ছুঁতে পারে। মেয়ের সাফল্যে গলা ভারী হয়ে আসে বাবা-মায়ের। আর ঋধিমার কথায়, কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবিনি এত বড় মঞ্চে প্রথম হব। পড়াশোনার পাশাপাশি আরও ভালোভাবে গানের তালিম নিতে চাই। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ