নয়াদিল্লি: ১৯৭৫ সালে হকি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। তারপর দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যর্থতা। ক্রেগ ফুলটনের দল কি ৫১ বছরের খরা কাটাতে পারবে? হরমনপ্রীত, অভিষেকদের নিয়ে বেশ আশাবাদী হকি মহল। আগামী ১৫ আগস্ট নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে শুরু হচ্ছে হকি বিশ্বকাপ। তার আগে ভারতীয় দলকে শুভেচ্ছায় ভরালেন প্রাক্তনরা।
ধ্যানচাঁদপুত্র অশোক কুমার হকি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য। ১৯৭৫-এর ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে বশ মানিয়েছিল ভারত। ৫১ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন অশোকই। এদিন তাঁর মন্তব্য, ‘গোটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে হকি দল। এটা ওদের মাথায় রাখতে হবে। আশা করি, এবারের দল ভুলিয়ে দেবে দীর্ঘ অপেক্ষার আক্ষেপ।’ আসলাম শের খানও আশাবাদী। তিনিও বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের সৈনিক। সেমি-ফাইনালে মলেয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সমতা ফিরিয়েছিলেন তিনিই। আসলামের স্মৃতিচারণ, ‘১৯৭১ সালে বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ পাই আমরা। কিন্তু সোনা ছিল অধরাই। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কোচ বলবীর সিং। মানসিক যন্ত্রণায় বিদ্ধ হকি খেলোয়াড়রা রাতে ঘুমোতেও পারত না। তবে চার বছরের মধ্যেই সেই হতাশা কাটিয়ে সোনা জিতেছিলাম আমরা। আশা করি এবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’ আসলামদের আর্তি কি শুনতে পাচ্ছেন হরমনপ্রীতরা? সাম্প্রতিককালে হকিতে ভারতের পারফরম্যান্স বেশ ঝলমলে। টোকিওর পর প্যারিস ওলিম্পিকসেও পদক জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে ফুলটন ব্রিগেডের। আসলাম বলেছেন, ‘ওলিম্পিকসে ভারতীয় দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছিল। স্পিরিট বজায় থাকলে ভালো কিছুর আশা করাই যায়।’ পাশাপাশি অশোক কুমারের সংযোজন, ‘অ্যাস্ট্রো টার্ফ ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক হকির সংজ্ঞাই পালটে গিয়েছে। গতি, স্ট্যামিনার শীর্ষে থাকা প্রয়োজন। কোচ ফুলটন নিশ্চয়ই সেদিকে নজর দেবেন।’
গ্রুপ ‘ডি’ তে ভারতের সঙ্গে রয়েছে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েলশ। স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রথম প্রতিপক্ষ ওয়েলশ। চারদিন পর বিশ্বকাপে ভারত-পাক মহারণ। তবে ক্রিকেট হোক বা হকি, সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়নি ভারত। এবারও এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবেন হরমনপ্রীতরা।