Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটার তালিকায় বিচারাধীন, ক্ষুব্ধ রামপুরহাটের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী। ভোটার তালিকায় বিচারাধীন পঞ্চায়েত সদস্যর ছেলেও

ভোটার তালিকায় বিচারাধীন, ক্ষুব্ধ রামপুরহাটের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী। ভোটার তালিকায় বিচারাধীন পঞ্চায়েত সদস্যর ছেলেও। ভোটার তালিকা দেখার পরে প্রাক্তন সেনাকর্মী হতাশার পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ব্লক অফিসে এসে ক্ষোভ উগড়ে দেন তাঁর ছেলে। 

Advertisement

হোলির ছুটির পর এদিন অফিস খুলতেই বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা আসতে শুরু করেছেন ব্লক অফিসে। তাঁদের কারো নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, আবার কেউ বিচারাধীন রয়েছেন। রামপুরহাটের গুগ গ্রামের ১৯৪ পার্টের বাসিন্দা রাজু হেমব্রম বলেন, শ্বশুর, শাশুড়ি ১৯৮৫ সালে মারা যায়। মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছে আমার স্ত্রী লক্ষ্মী হেমব্রম। ২০০২ সালের তালিকায় যেহেতু বাবা মায়ের নাম নেই, তাই স্ত্রীর নামের উপর বিচারাধীন স্ট্যাম্প মেরে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্ত্রীর পূর্বপুরুষ এখানকারই বাসিন্দা। রামপুরহাটের কাষ্টগড়া গ্রামের ১৯৯ পার্টের বাসিন্দা সম্পর্কে দু’ভাই রামকৃষ্ণ ডোম, মঙ্গল ডোম। তাঁরা বলেন, বাবা অনেক আগেই মারা গিয়েছে। মা ও মেজ ভাইয়ের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও আমাদের দুই ভাইয়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ একই নথি আমরা জমা দিয়েছিলাম।
 রামপুরহাটের দাদপুর গ্রামের বাসিন্দা অজিরুল ইসলামের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি বলেন, ভোটার কার্ড থেকে ২০০২ সালের তালিকায় আমার ও বাবার যে নাম ও বানান আছে, খসড়া তালিকায় সেটাই রয়েছে। কিন্তু, তারপরও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অন্ধ, নাকি পরিকল্পনা মাফিক নাম বাদ দিচ্ছে। আমি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী থেকে সর্বস্তরে জানাব। 
কাষ্ঠগড়া পঞ্চায়েতের ১৯৯ পার্টের বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত সদস্য ইয়াসিন শেখ। তাঁর বাবা  আস মহম্মদ শেখ প্রাক্তন সেনাকর্মী। বাবা ও ছেলে দু’জনেই ভোটার তালিকায় বিচারাধীন। ইয়াসিন সাহেব বলেন, আমার বাবা আস মহম্মদ শেখ। কিন্তু, এসআইআরের খসড়া তালিকায় আস মহঃ শেখ করা হয়। যার ফলে বাবাকে ও আমাকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। বাবা চাকরি, পেনশন সহ সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন। তারপরও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বাবাকে অ্যাডজুডিকেশন দেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে আমাকেও বিচারাধীন দেখানো হয়েছে। 
আস মহম্মদ শেখ বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকরি করতাম। ১৯৯৯ সালে অবসর গ্রহণ করেছি। দেশের জন্য কাজ করেছি। আজ আমাকেই ভোটার তালিকায় সন্দেহজনক বা বিচারাধীন দেখানো হল। এত বছর দেশ রক্ষার কাজ করার পরও আমি সন্দেহজনক ভোটার? তা হলে সাধারণ মানুষের কী দুর্গতি হচ্ছে, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। 
ইয়াসিন সাহেব বলেন, এই পার্টের ১৪০ জনকে বিচারাধীন ও ৮ জনকে লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ সকলেই বৈধ ভোটার। নির্বাচন কমিশনের অনেক গাফিলতি রয়েছে। হিয়ারিংয়ে আসা ভোটারদের কাগজপত্র ঠিকঠাক জমা নেননি। সেজন্যই আজ বহু লোক সন্দেহজনক ও বাদের তালিকায় থেকে গিয়েছেন। এখন বিচারাধীন ও বাদের তালিকায় থাকা ভোটারদের ক্ষেত্রে কমিশন কী বার্তা দেন তার দিকেই তাকিয়ে বহু মানুষ। 
এ প্রসঙ্গে বিডিও অঙ্কুর মিত্র কিছু বলতে চাননি। অফিসের এক আধিকারিক অবশ্য নির্বাচনী কাজে গাফিলতির অভিযোগ মানতে রাজি হননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ