Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬

‘তেজস’ যুদ্ধবিমান প্রজেক্টের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা উপপ্রধান

ভারতে তৈরি তেজস জেট ফাইটার প্রজেক্ট নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে দিলেন এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর। মাস দু’য়েক আগেই ভারতীয় বায়ুসেনার উপপ্রধানের পদ থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি।

‘তেজস’ যুদ্ধবিমান প্রজেক্টের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা উপপ্রধান
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ভারতে তৈরি তেজস জেট ফাইটার প্রজেক্ট নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে দিলেন এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর। মাস দু’য়েক আগেই ভারতীয় বায়ুসেনার উপপ্রধানের পদ থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত এই বায়ুসেনা কর্তার দাবি, ২০৩৫ সাল নাগাদ তেজস এমকে-২ যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে বাহিনীর হাতে আসবে, তখন হয়তো সম্মুখ সমরে এই যুদ্ধবিমানের ভূমিকা প্রাসঙ্গিক নাও থাকতে পারে। কিন্তু দেশে তৈরি এই চতুর্থ প্রজন্মের ফাইটার জেট নিয়ে কেন এমন আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তিনি? ঘটনাচক্রে, চীন ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার জেট ফ্ল্যাটফর্মের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেটের কথা ভাবছে। এই অবস্থায় ২০৩৫ সালে গিয়ে ভারতের চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান এয়ার মার্শাল কাপুর। এবিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘না, কার্যক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই প্রাসঙ্গিক থাকবে না।’

Advertisement

ফিফ্থ-জেনারেশন বা পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেটগুলির মধ্যে অন্যতম হল আমেরিকার এফ-২২ ও চীনের জে-২০ কম্বাইন স্টিলথ। সেন্সর ফিউশন ও অভ্যন্তরীণ অস্ত্রবাহী ক্ষমতার জন্য এগুলিকে রাডারে ধরা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সিক্সথ-জেনারেশন বা ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার জেটগুলির মধ্যে অন্যতম চীনের জে-৩৬ এবং জে-৫০। এগুলিকে বাড়তি শক্তি সঞ্চার করে এআই চালিত স্বয়ংক্রিয়তা ও ড্রোন সংযুক্তি। ফলে এই ফাইটার জেটগুলি একক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে ‘সিস্টেম অব সিস্টেমস’ হিসাবে একটি নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে। ভারতের হাতে বর্তমানে কোনো ফিফ্থ বা সিক্সথ-জেনারেশন যুদ্ধবিমান নেই। যদিও চীন ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি ফিফ্থ-জেনারেশন জে-২০ ফাইটার জেট মোতায়েনের পথে হাঁটছে বলে খবর। তাহলে কি ভারতের তৈরি ফোর্থ-জেনারেশন তেজস এমকে-২ যুদ্ধবিমানের বাস্তবে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকাই থাকবে না? এয়ার মার্শাল কাপুরের বক্তব্য, আপনার কাছে ফিফ্থ বা সিক্সথ-জেনারেশন ফাইটার জেট থাকলেও আমাদের দেশ এতটাই বিশাল যে সর্বত্র তা মোতায়েন সম্ভব নয়। তেজসের মতো ফোর্থ-জেনারেশন যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে সেই ফাঁক পূরণ করা সম্ভব। উল্লেখযোগ্যভাবে, তেজাস যুদ্ধবিমান নির্মাতা সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)-এর মনোভাবেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন এয়ার মার্শাল কাপুর। তিনি বলেন, সময়মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমানের জোগানের অভাব বর্তমানে ‘বড়ো উদ্বেগে’র বিষয়। বহু বছর আগে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কেন কোনো কোনো বাহানায় জোগান পিছিয়ে যাচ্ছে? কেউ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি বলে আমাদের কেন পঙ্গু হয়ে থাকতে হবে? তবে, ভারতে তৈরি যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তাকে জোরালো সমর্থনই করেছেন এয়ার মার্শাল কাপুর। তাঁর কথায়, নিঃসন্দেহে দেশীয় প্রযুক্তিই ভবিষ্যৎ পথ। কিন্তু আমরা আর কতদিন অপেক্ষা করব?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ